জেনারেশন জেড বা জেনজি নামে পরিচিত বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের কেনাকাটার অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে।
দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় মুদি বা নিত্যপণ্যের খরচ কমিয়ে সে অর্থ সৌন্দর্য, ত্বকের যত্ন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যয় করছে ৫৯ শতাংশ তরুণ ভোক্তা। সম্প্রতি গ্লোবাল রিটেইল প্লাটফর্ম ফার্স্ট ইনসাইটের এক বৈশ্বিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দি ইন্ডাস্ট্রি বিউটি।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, জেনারেশন জেড এখন খাবার, পানীয় ও গৃহস্থালি পণ্যের ক্ষেত্রে সস্তা বা সাশ্রয়ী বিকল্পগুলো বেছে নিচ্ছে। তবে এ সাশ্রয় কোনো অভাব থেকে নয়, বরং এটি একটি সুচিন্তিত কৌশল। তরুণ-তরুণীরা নিত্যপণ্যে অর্থ বাঁচিয়ে তা ব্যয় করছে স্বাস্থ্য ও বিশেষ করে রূপচর্চার পেছনে। এমনকি এ প্রজন্মের প্রায় ২২ শতাংশ ভোক্তা ভালো মানের বিউটি পণ্যের জন্য বাড়তি দাম দিতেও দ্বিধাবোধ করছে না। ফার্স্ট ইনসাইটের তথ্য বলছে, নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে এসব তরুণ সাধারণত দামকে বেশি গুরুত্ব দিলেও রূপচর্চার পণ্যের বেলায় তাদের সমীকরণ ভিন্ন। এখানে দামের চেয়ে গুণমানই তাদের কাছে মুখ্য। তারা রূপচর্চাকে কেবল প্রসাধন হিসেবে দেখছে না, বরং ব্যক্তিগত যত্ন ও দীর্ঘমেয়াদি সুফলের জন্য একটি ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। ব্র্যান্ড পছন্দ করার ক্ষেত্রেও জেনজিদের আচরণে বেশ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যদিও সুপ্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো এখনো পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে, তবু দ্রুত তরুণদের নজর কাড়তে পারছে না কোম্পানিগুলো। গবেষণায় দেখা গেছে, নামিদামি সব ব্র্যান্ড প্রাথমিক পরিচিতি পেলেও জেনজিদের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ ধরে রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। অন্যদিকে নতুন ব্র্যান্ডগুলো ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে দ্রুত তরুণদের আস্থা অর্জন করছে।
ইনসাইটস ইন মার্কেটিংয়ের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে সৌন্দর্যচর্চা বা বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে এক আমূল পরিবর্তন এনেছে জেনজি ক্রেতারা। ১৯৯৭-২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া এ প্রজন্ম শুধু প্রযুক্তিগতভাবেই দক্ষ নয়, বরং তারা নির্ভেজাল পণ্য, গুণগতমান ও ব্যক্তিগত চাহিদার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
পাশাপাশি প্রথাগত বিপণন কৌশলকে পাশ কাটিয়ে এ প্রজন্মের কাছে এখন সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যম। বিশেষ করে টিকটকের ছোট ভিডিও বা টিউটোরিয়ালগুলো কিছু পণ্যকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তুলছে। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনেক পণ্য বাজার থেকে শেষও হয়ে যাচ্ছে।
বাজার গবেষণা সংস্থাটির তথ্য বলছে, একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এমন পণ্য বর্জন করছে জেনজি। ক্রুয়েলটি-ফ্রি বা প্রাণীদেহে পরীক্ষিত নয়, এমন ভেগান পণ্যের দিকে ঝুঁকছে তারা। এমনকি পণ্যের মোড়ক বা প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রেও পরিবেশবান্ধব ও পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বিকল্প খুঁজছে প্রজন্মটি।
এ জাতীয় আরো খবর..