✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার ঘোষণা ইসরায়েলের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২৭, | ১১:৫৪:০২ |
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ অন্তত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জোরপূর্বক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। মিডল ইস্ট আই-এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে।


মসজিদ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গতকাল বুধবার ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জর্ডান-নিযুক্ত ‘জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ’ কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে ১৫ এপ্রিলের পর মসজিদটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে কি না, নাকি এই নিষেধাজ্ঞা আরও দীর্ঘায়িত হবে—সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

এদিকে যুদ্ধের মধ্যে গত শুক্রবার (২০ মার্চ) মুসলমানদের সবচেয়ে ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের নামাজও আল-আকসা প্রাঙ্গণে আদায় করতে দেয়নি দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। 

যুদ্ধের অজুহাত ও বর্তমান পরিস্থিতি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রেখেছে ইসরায়েল। জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মুসল্লিদের প্রবেশে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, যুদ্ধের অজুহাতে মসজিদটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, জেরুজালেমের পুরনো শহর এবং আল-আকসা এলাকা কঠোর লকডাউনে থাকলেও শহরের অন্য অংশের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। সেখানে বড় ধরনের জনসমাগম বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না।

সমালোচকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব থাকলেও আল-আকসার ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো জরুরি প্রয়োজনে কয়েকশ মানুষের আশ্রয়স্থল হতে পারত, যা এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

নজিরবিহীন উত্তেজনা

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে মুসলিম মুসল্লিদের জন্য এত দীর্ঘ সময় আল-আকসা বন্ধ রাখার ঘটনা এবারই প্রথম। এটিকে একটি ‘নজিরবিহীন উত্তেজনা’ হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং আল-আকসার সিনিয়র ইমাম ইকরিমা সাবরি এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ ও ‘অবৈধ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই বন্ধের সিদ্ধান্ত ইবাদত করার স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে ইসলামিক ওয়াকফ-এর প্রশাসনিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জেরুজালেম গভর্নরেট গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি আল-আকসাকে ইহুদীকরণের একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, দখলদার শক্তির কোনো অধিকৃত অঞ্চলের ওপর সার্বভৌমত্ব থাকে না এবং তারা সেখানে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে না। সেই হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের এই নিয়ন্ত্রণকে বিশ্বজুড়ে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..