✕

সর্বশেষ :
দিনে ৮ ঘণ্টা এসি চালালে মাসে কত টাকা বিল আসবে? বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আইনি ঝুঁকিতে এয়ার ফ্রান্স আট মাসে চাকরি নিয়ে বিদেশ পাড়ি সাড়ে ৪ লাখ জনের টিকিট নিয়ে সতর্কবার্তা, যাত্রীরা যা করলে দায় নেবে না রেলওয়ে একাদশে ভর্তি নিয়ে নতুন নির্দেশনা তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ স্কুলে ভর্তি: শ্রেণিভেদে কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা সোমবার দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আসছে ৮০টি নতুন লোকোমোটিভ: রেলমন্ত্রী

শ্রমজীবীদের ঈদ : ঘাম আর সংগ্রামেই কাটে উৎসবের দিন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২১, | ১৬:২৩:২১ |
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সারা দেশে উৎসবের আমেজে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। তবে এই আনন্দ সবাইকে সমানভাবে স্পর্শ করে না। অনেকের কাছে ঈদের দিনটিও শ্রম আর ঘামে অন্য আট-দশটি সাধারণ দিনের মতোই।

রাজধানীর মগবাজার এলাকায় প্যাডেল চালিত রিকশা চালান হযরত আলী। তার বাড়ি রাজবাড়ী সদরে। স্ত্রী ও চার মেয়ে নিয়ে তার অভাবের সংসার। তিন মেয়ের বিয়ে দিলেও ছোট মেয়ের বিয়ে আগামী শুক্রবার। উৎসবের দিনেও বাড়ি না গিয়ে রিকশা চালানোর কারণ জানতে চাইলে ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ বলেন, “আগামী শুক্রবার ছোট মেয়ের বিয়ে। সেই খরচ জোগাতে পুরো রমজান মাস রাত জেগে রিকশা চালিয়েছি। বাড়তি কিছু আয়ের আশায় ঈদের দিনগুলোতেও হাড়ভাঙা খাটুনি দিচ্ছি যাতে মেয়েটার বিয়ে ভালোভাবে দিতে পারি।”

কষ্টের মাঝেও কিছুটা প্রাপ্তির কথা জানালেন তিনি। হযরত আলী জানান, ভাড়ার বাইরেও অনেক মানুষ তাকে সহযোগিতা করছেন। গত পরশু একজন হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) তাকে মেয়ের বিয়ের জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল সকালে তিনি বাড়ির পথে রওনা হবেন।

অন্যদিকে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ইউনুসের বাড়ি বাগেরহাটে। মালিবাগ রেলগেটে কথা হলে তিনি জানান, পরিবারের সবাই বাড়িতেই ঈদ করছে। তাদের জন্য নতুন পোশাকের টাকা পাঠাতে পারলেও নিজে যেতে পারেননি। ইউনুস বলেন, “ঈদের সময় বাড়ি যাওয়ার ভাড়া অনেক বেশি। পরিবারের সবাই বাড়িতে আর আমি ঢাকায়—মনটা তো একটু খারাপ লাগছেই।” ঈদের ভিড় কমলে কয়েকদিন পর তিনি বাড়ি যাবেন বলে জানান।

রাজধানীর দিয়াবাড়ি-পোস্তগোলা রুটে চলাচলকারী রাইদা পরিবহনের চালকের সহকারী মোবারক হোসেনের ঈদ কাটছে বাসেই। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকলেও গ্রামে থাকা বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ছে তার। মোবারক বলেন, ঈদের দিন যাত্রীচাপ কম থাকলেও যারা বাসে ওঠেন, তাদের প্রায় সবাই ভাড়ার অতিরিক্ত কিছু বখশিশ দিচ্ছেন। বিকেলে কাজ শেষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার পরিকল্পনা আছে তার। কয়েকদিন পর তাদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি জামালপুর যাবেন বলে জানান তিনি।

এভাবেই হাজারো শ্রমজীবীর ঘাম আর অপূর্ণতার মাঝে কেটে যায় ঈদের দিনটি। অন্যের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে গিয়ে নিজের আনন্দকে বিসর্জন দেওয়াই যেন তাদের নিয়তি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..