✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২১, | ১২:৩৫:৫৪ |
লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই নগরীর অলিগলি থেকে মানুষের ঢল নামে ঈদগাহমুখী পথে, আর সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ফুটপাত ও খোলা স্থানেও মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজকে ঘিরে ছিল আনন্দ, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃশ্য।

প্রধান জামাতে ইমামতি করেন শায়েখে পীর সাহেব বরুণা। জামাতের আগে বয়ান পেশ করেন বন্দরবাজার জামে মসজিদের খতিব হাফিজ মাওলানা কামাল উদ্দিন। বয়ানে তারা ঈদের তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ, দেশবাসীর সুখ-শান্তি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকট থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। এ সময় মুসল্লিদের অনেককে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

এ বছর সিলেট জেলায় মোট ২ হাজার ৯৫৮টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় ৩৯৬টি জামাত। নগরীর বিভিন্ন মসজিদের পাশাপাশি একাধিক ঈদগাহ মাঠেও বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২ হাজারের বেশি স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে বড় ঈদগাহগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে।

সিলেটে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ।

ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গ্রহণ করা হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে মাঠজুড়ে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরীর প্রতিটি ঈদগাহ ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার ছিল।

ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনেকেই পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দ্রুত বাড়ির পথে রওনা দেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর নতুন পোশাকের ঝলকানিতে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..