পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য

সৌদির সঙ্গে মিলে দেশের ২০৬ স্থানে ঈদের জামাত, ২৯ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২০, | ২১:৪৯:০৮ |

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন একদল মুসল্লি। এসব জামাতে প্রায় ২৯ হাজারের ওপরে মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছে। পুলিশের অপারেশন কন্ট্রোল শাখার তথ্য অনুযায়ী, রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটনভিত্তিক নির্ধারিত স্থানগুলোতে এসব ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পুলিশের তথ্য বলছে, সারাদেশে মোট ২০৬টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লির সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ হাজার ৮০০ থেকে ২৯ হাজার ৩০০ জন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে সব থেকে বেশি জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জে। সেখানে ৭১টি জামাতে সর্বোচ্চ প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছেন।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে রেখে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের এলাকার ধামরাই, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার, মুন্সিগঞ্জ সদর, বেলাবো, গাজীপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদি, দেলদুয়ার, বোয়ালমারী, মাদারীপুর সদর, কালকিনি, পালং মডেল, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জসহ মোট ২৪টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্রায় ৪ হাজার ৭০০ মুসল্লি।
এছাড়া চট্টগ্রাম রেঞ্জের এলাকার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ১২ হাজার ৫০০ মুসল্লি।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের কোতোয়ালি, ভালুকা, ফুলপুর, গৌরীপুর, সরিষাবাড়ী, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, শেরপুর সদর, নকলা ও নালিতাবাড়ীসহ ১৭টি স্থানে প্রায় ২ হাজার ২০০ মুসল্লি ঈদ জামাতে অংশ নেন। রংপুর রেঞ্জের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় ২৩টি স্থানে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন, রাজশাহী রেঞ্জে পুঠিয়া, গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, পত্নীতলা, পাবনা সদর, সাঁথিয়া, গাবতলী ও শেরপুরসহ ১০টি স্থানে প্রায় ৯৮৮ জন মুসল্লি ঈদ জামাতে অংশ নেন।

পুলিশ সদরদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, সিলেট রেঞ্জের মৌলভীবাজার সদর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মাধবপুরসহ ৩টি স্থানে প্রায় ২২৫ জন এবং খুলনা রেঞ্জে মংলা, তেরখাদা, সাতক্ষীরা সদর, শ্যামনগর, নড়াগাতী ও হরিণাকুণ্ডুসহ ৮টি স্থানে প্রায় ৪০০ মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বরিশাল রেঞ্জে বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে ৪৩টির বেশি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে পটুয়াখালী জেলায় ১২টি জামাতে অংশ নেন প্রায় ৫ হাজার ৫৪০ মুসল্লি।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মেট্রোপলিটন পুলিশের মধ্যে সব থেকে বেশি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এলাকায়। ডিএমপিতে মোট ৪ টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে আর এতে অংশ নেন প্রায় ৮০০ জন মুসল্লি। এর মধ্যে খিলগাঁওয়ে ১টি ও কলাবাগানে ৩ টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া সিএমপি এলাকায় ১টি স্থানে প্রায় ২৫০-৩০০ জন, বিএমপি এলাকায় বরিশাল কোতোয়ালি থানায় ১টি জামাতে প্রায় ৪০০-৪৫০ জন এবং কেএমপি এলাকায় খুলনা কোতোয়ালি থানায় ১টি জামাতে প্রায় ৬০-৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন।

পুলিশ সদরদপ্তরের অপারেশন কন্ট্রোল শাখা জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এসব স্থানে আজ ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। প্রতিটি জামাত সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সরকারিভাবে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদের দিন নির্ধারণ করা হলেও দেশের কিছু মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে থাকেন। তাদের মতে, সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেলে সেটিকে অনুসরণ করা বৈধ। তাই তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবার ঈদ উদযাপন করেন।

অন্যদিকে আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে এক যুগে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল ফিতর। তাই ঈদকে সামনে রেখে সারাদেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরগুলো। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও বিজেপিও ঈদ নিরাপত্তায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে রাজধানী যখন প্রায় খালি হয়ে যাবে, তখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে র‍্যাব-পুলিশের অন্তত ১৬ হাজার সদস্য তৎপর থাকবেন। এ সময় রাস্তায় তল্লাশিচৌকি বসানোর পাশাপাশি বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

ঈদের নিরাপদ ব্যবস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ)জাতীয় ঈদগাহ মাঠের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ শেষ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ইভেন যেসব রাস্তায় ওভার স্পিডিং করে সেখানে আমাদের পুলিশ সার্জেন্টরা কাজ করবে।

তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঈদের নিরাপত্তায় মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে র‍্যাব। শুক্রবার এছাড়া আইন ও গণমাধ্যম শাখা জানায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে কয়েক বিশেষ নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‍্যাব। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেই লক্ষ্যে র‍্যাবের পক্ষ থেকে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষ্যে র‍্যাবের পক্ষ থেকে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো হলো—

১. পবিত্র ঈদুল ফিতরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব সারা দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। ব্যাটালিয়নগুলো নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রেখেছে।

২. সারা দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য রয়েছে র‌্যাবের কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ফুট ও মোবাইল পেট্রোল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, অবজারভেশন পোস্ট, চেকপোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিং।

৩. পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী ঘরমুখী মানুষকে নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি র‌্যাবের সেবা সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সব ব্যাটালিয়নগুলোর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থানসমূহে বিশেষ নজরদারি রয়েছে।

৪. যাত্রী হয়রানি রোধকল্পে টিকিট নিয়ে কোনো প্রকার কারসাজি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫. রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহে (জাতীয় ঈদগাহ, শোলাকিয়া ঈদগাহ ও দিনাজপুর বড় ঈদগাহ) নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ সমূহে নিরাপত্তা সুইপিং করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সিসিটিভি কাভারেজ থাকবে।

৬. রাজধানীসহ সারাদেশে ঈদের ছুটিতে যাওয়া মানুষের বাসস্থান, কর্মস্থল, শপিংমলসহ অন্যান্য স্থানে চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে র‌্যাবের নজরদারি ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

৭. ভার্চুয়াল জগতে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে যেকোন ধরণের গুজব/উসকানিমূলক তথ্য/মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে র‌্যাব সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখছে।

এছাড়া ঈদ যাত্রার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর প্রধান প্রবেশ ও বাহির পথ গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সাংবাদিকদের বলেন, সব ইউনিটকে বলে দিয়েছি, এই ঈদযাত্রা সুষ্ঠু ও সুন্দর করার জন্য। সব ইউনিটের ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। বাংলাদেশ পুলিশ তৎপর। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা কোনো অন্যায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ নেই।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..