সর্বশেষ :
সেমিফাইনাল বৃষ্টির পেটে গেলে কারা ফাইনালে? বিমান পরিবহন খাত উন্নয়নে ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের জন্য ঋণ পাবে রপ্তানিমুখী শিল্প অভিনন্দনের বিলবোর্ড অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আধিপত্য চালের দাম বৃদ্ধির খবর শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইরান যুদ্ধ কি বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক ভেস্তে দেবে? ‘অনন্তকাল’ লড়াই করার মতো অস্ত্রের মজুত আমেরিকার কাছে আছে: ট্রাম্প দ্রুতই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হবে: ইরানি গণমাধ্যম ‘৫০ লাখ কোনো টাকা হলো?’— ক্রিকেটারদের আরও কড়া শাস্তির দাবি আফ্রিদির

যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকিতে ফেলেছেন ট্রাম্প

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-০৩, | ১৪:৫৮:৫৫ |
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনৈতিক হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বেই প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলায়ও বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এরই মধ্যে ইরানে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের পাল্টা হামলায়ও মধ্যপ্রচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ নিহতের খবর আসছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মুসলিম দেশগুলোতেই নয়; আরেকটি অনৈতিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জন্য একই সঙ্গে ক্ষোভ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রেও। 

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে গতকাল সোমবার পত্রিকাটির পলেটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট রবার্ট টেইটের লেখা একটি নিবন্ধ প্রকাশ হয়েছে। সেখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, খামেনি হত্যা ও ইরান নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব যুক্তরাষ্ট্রকে কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকিতে ফেলেছে। 


নিবন্ধে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ইরানে চলমান আক্রমণ এবং হতাহতের খবরের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা নিয়ে নিজ দেশেই চাপের মুখে রয়েছেন। ট্রাম্পের সমালোচকদের দাবি, ইরান নিয়ে হোয়াইট হাউসকে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। কারণ এ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অথচ এ ধরনের সংঘাত এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প বারবার দিয়েছিলেন।

ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এবং ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ভাটানকা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যদি কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থেকেও থাকে, তবে তারা তা এখনও প্রকাশ করেনি। ইরানে হামলার পর ট্রাম্পকে একটি বড় রাজনৈতিক প্রকল্পের দিকে এগোতে হবে, যা কেবল সামরিক অংশ নয়। বিষয়টি নিয়ে তাঁর প্রশাসনে গভীর আলোচনা প্রয়োজন। তারা আসলে ইরানে কী ধরনের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে চায় তা স্পষ্ট করা দরকার। তখন এ অভিযান কেবল চার দিন, চার সপ্তাহ বা চার মাসের হবে না; এটি অনেক দীর্ঘ কিছু হতে পারে।


এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে যখন ইরাক আক্রমণ করেছিল, সে ঘটনাকে ট্রাম্প বারবার একটি বড় ভুল হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। অথচ তাঁর শাসনামলেই গত জুনে সিরিজ হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেন তিনি। ফলে এখন আবার দেশটির স্থাপনায় হামলার যৌক্তিকতা জনসমক্ষে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প সমালোচিত হচ্ছেন। গত সপ্তাহে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে হুমকির কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেখানে ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ ছিল না। ট্রাম্প এও বলেছিলেন, ইরানের কথিত সামরিক হুমকির বিষয়টি তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে পছন্দ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতারাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া ইরানে হামলার সিদ্ধান্তটি অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত হতে পারে। মার্কিন আইন সভার নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ইন্টেলিজেন্স কমিটির সিনিয়র ডেমোক্র্যাট জিম হাইমস বলেন, আমরা ইসরায়েলিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ইরানে বোমা হামলা চালাতে পারি? আমাদের উদ্দেশ্য কি শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন? কারণ বোমা হামলার মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের উদাহরণ খুব একটা নেই। মার্কিন সামরিক বাহিনী সন্তোষজনকভাবে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে পেরেছে– এমন উদাহরণও বিরল।

এদিকে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এক এক্স পোস্টে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকাকে এমন একটি যুদ্ধে টেনে নিচ্ছেন, যা আমেরিকানরা চায় না। আমি স্পষ্টভাবে বলছি, আমি ইরানে শাসন পরিবর্তন যুদ্ধের বিরোধী এবং এই যুদ্ধে আমাদের সেনাদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..