যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সিটি হলের সামনে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নতুন বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার নতুন তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন নগরটির প্রথম মুসলিম মেয়র। এর আগে সেখঅনে আয়োজন করা হয় অভিষেক অনুষ্ঠানের। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা সত্ত্বেও অভিষেক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেয়।
অনুষ্ঠানে জনতার সামনে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন ৩৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। তিনি এখন কাগজে–কলমে নিউইয়র্কে প্রথম মুসলিম মেয়র। পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেওয়া প্রথম মেয়রও তিনি।
শপথ গ্রহণের পর উপস্থিত বিপুল মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেন মামদানি। পাশে থাকার জন্য নিউইয়র্কের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন মুহূর্ত খুব কমই আসে। পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের এমন সুযোগ আমাদের খুব কমই আসে। আর আরও বিরল হলো সেই সময়, যখন পরিবর্তনের চাবিগুলো নিজের হাতে ধরে রাখে জনগণই।’
গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী পরিচয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছিলেন মামদানি। সেই পরিচয়েই গত নভেম্বরে জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি। অভিষেক ভাষণে মামদানি বলেন, ‘আমি একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। এই পরিচয়েই শাসন করতে চাই।’ উচ্চকণ্ঠে তাঁর এই বক্তব্যের সমর্থন জানান উপস্থিত মানুষ।
ভাষণটি লেখার সময় তাঁকে নাকি নিউইয়র্কবাসীর প্রত্যাশা কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—ভাষণে এমনটিই বলেন মামদানি। তিনি বলেন, ‘আমি তা করব না। আমি কেবল একটি বিষয় বদলাতে চাই, তা হলো ছোট প্রত্যাশা করা। আজ থেকে আমাদের প্রশাসন হবে সাহসী। আমরা সব সময় সফল না–ও হতে পারি, কিন্তু সাহসের অভাবের কথা যেন কেউ বলতে না পারে।’
বিনা মূল্যে বাস সেবা, শিশু পরিচর্যা ও বাড়িভাড়া কমানোর মতো মামদানির নানা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মানুষের মন জয় করেছিল। তাঁর ওপর ভরসা করেছেন নিউইয়র্কের বাসিন্দারা। নতুন মেয়রের হাত ধরে যে তাঁরা নতুন নিউইয়র্কের আশা করছেন, তা বোঝা যায় মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল দেখলেও। বলা হচ্ছে, অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ‘ব্লক পার্টির’ আয়োজন হয়। নিউইয়র্ক শহরের মারে স্ট্রিট থেকে লিবার্টি স্ট্রিট পর্যন্ত সাতটি ব্লকে একত্র হন হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে চার হাজার নিবন্ধিত অতিথি ছিলেন সিটি হল এলাকার মধ্যে। অন্যরা আশপাশের সাতটি ব্লকজুড়ে অবস্থান নেন।
মামদানির শপথ অনুষ্ঠান হয়েছে দুই ধাপে। প্রথম অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে পরিত্যক্ত ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে (পাতালরেল) স্টেশনে। সেখানে তাঁকে শপথ পাঠ করান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস। এ সময় মামদানির বাবা অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি, মা চলচ্চিত্রকার মীরা নায়ার ও স্ত্রী রমা দুওয়াজি উপস্থিত ছিলেন।
মামদানি দ্বিতীয় ধাপে শপথ গ্রহণ করেন বৃহস্পতিবার অভিষেক অনুষ্ঠানে। সেখানে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি বলেন, ‘এটি নিউইয়র্ক সিটির জন্য এক নতুন যুগের সূচনা। জোহরানের মাধ্যমে আমরা এমন এক মেয়র পেয়েছি, যিনি শ্রমজীবী মানুষের জীবন সমৃদ্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোহরান সবার মেয়র হবেন।’
এরপর মামদানিকে শপথ পড়ান ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তাঁকে নিজের একজন পথপ্রদর্শক মানেন মামদানি। স্যান্ডার্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন এক সময় আমরা মামদানিকে নির্বাচিত করেছি, যখন আমরা অত্যধিক ঘৃণা, বিভাজন ও অবিচার দেখছি। নিউইয়র্কবাসী, আপনারা এমন এক সরকার গড়ার আশা দেখিয়েছেন, যারা সবার জন্য কাজ করবে।’
প্রথম দিনেই বড় পদক্ষেপ নেন মামদানি। অভিষেকের কয়েক ঘণ্টা পর মেয়র হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেন মামদানি। প্রথম দিনেই নেন বড় একটি পদক্ষেপ। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন।
বাতিল হওয়া নির্বাহী আদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে গত মাসে অ্যাডামসের জারি করা একটি নির্দেশনা। ওই নির্দেশনায় মেয়র হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মেয়রের কার্যালয়ের কর্মচারীদের ইসরায়েল বর্জন ও দেশটিতে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল।
এ জাতীয় আরো খবর..