ইউক্রেনের দখলকৃত ভূমি নিয়ে আলোচনা নয় : রাশিয়া
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া হিসাবে প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এক টেবিলে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে রাশিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল ইতোমধ্যে রুশ দখলে রয়েছে সেগুলো নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হবে না। অর্থাৎ এসব অঞ্চল আর ইউক্রেনকে ফিরিয়ে দেবে না বলে জানিয়েছে রাশিয়া। খবর আল জাজিরা।
ইউক্রেন যুদ্ধ তিন বছর অতিক্রম করে চতুর্থ বছরে পড়েছে। এ সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের দনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজিয়া এবং খেরসন অঞ্চল দখল করে নিয়েছে রাশিয়া। এসব অঞ্চলে রাশিয়া গণভোটও অনুষ্ঠিত করেছে। এর আগে গণভোটের মাধ্যমে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকল সাংবাদিকদের বলেছেন, যে অঞ্চলগুলো রাশিয়ার ফেডারেশনের হয়ে উঠেছে, সেগুলো আমাদের দেশের সংবিধানে খোদাই করা হয়েছে, সেগুলো আমাদের দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে কয়েকশ বর্গ কিমি এলাকা দখল করেছে। ইতোমধ্যে ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর সঙ্গে ভূখণ্ড ‘বিনিময়’ করার একটি পরিকল্পনার কথা বলেছেন, যা মস্কোর পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এদিকে ইস্তাম্বুলে রুশ-মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক থেকে তেমন অগ্রগতি আশা করছেন না ক্রেমলিন। পেসকভ বলেছেন, এই বৈঠক থেকে তিনি তেমন কিছু আশা করছেন না। মস্কোয় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে বহু সমস্যা জমে রয়েছে কিন্তু তারা এর দ্রুত সমাধান চায়। তার কথায়, কেউ সহজ বা দ্রুত সমাধান আশা করে না। সমস্যাগুলো অত্যন্ত জটিল এবং অনেক দিন থেকে অবহেলিত। যদি উভয় দেশের সদিচ্ছা থাকে, একে অপরের কথা শোনার ইচ্ছা থাকে তাহলে হয়তো প্রক্রিয়াটি চলতে পারে। পেসকল আরও বলেন, এগিয়ে লাফ দেওয়ার দরকার নেই। আলোচনার ফলাফলের তথ্য যথাসময়ে সরবরাহ করা হবে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে ঋণ পরিশোধের কোনো বিষয় মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ‘১০ সেন্ট ঋণ পরিশোধও’ গ্রহণ করবে না কিয়েভ। জেলেনস্কি গত বুধবার কিয়েভে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রশ্ন এটা নয় যে আমরা অকৃতজ্ঞ। আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু যদি পরবর্তী চুক্তিতে এমন কোনো শর্ত থাকে যে, নতুন সাহায্য বিনামূল্যে দেওয়া হবে না, তাহলে আমি করব না।