মিয়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত্যুর মিছিল, সাত দিনের শোক

মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশটিতে ৭ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। এদিকে গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত সংঘটিত ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২০০ জন। ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির এই মাত্রাকে “গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই শোককালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার পাশাপাশি সরকারি ভবনগুলোতে শোকের প্রতীক প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জান্তা সরকারের মুখপাত্র জো মিন তুন দাবি করেন, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০। তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রথম কম্পনের ১২ মিনিট পরে রিখটার স্কেলে ৬.৪ মাত্রার দ্বিতীয় ধাক্কাসহ একাধিক আফটারশক দেশটির মান্দালয়, সাগাইং, মাগওয়ে, নেপিডো অঞ্চল এবং ইস্টার্ন শান রাজ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ভবন ধসে যাওয়া, রাস্তা-সেতু বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে স্থানীয়রা হাতেই কাজ করছেন। রেডক্রসের এক কর্মকর্তা বলেন, “ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না। মানুষ সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন, কিন্তু পাহাড়ি এলাকা ও ধ্বংস্তূপে পৌঁছানো অসম্ভব।”
মান্দালয়সহ ৬টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। জাতিসংঘ ও প্রতিবেশী দেশগুলো ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিলেও ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পৌঁছাতে বাধার মুখে। স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.