বাংলাহোপ: অনাথ শিশুদের আলোর পথ

নিরুপমা মাড্ডি (ছদ্মনাম) তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। জন্মের পর সে তার বাবা-ময়ের দেখা পায় নাই। বাবা আর মায়ের ছবিটা কেমন তাও মনে করতে পারে না নিরুপমা।

শিশু বয়সেই তাকে নিয়ে আসা হয় ‘বাংলাহোপ’ -এ। সেই থেকে সে বাংলাহোপে আঙ্গিনাতেই হেসে খেলে বড় হচ্ছে। লেখাপড়া করছে, নাগরিক সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হচ্ছে সে। এখানে নিয়োজিত মা-ই নিরুপমার মা। তাই মা বলতে নিরুপমার চোখে ভেসে ওঠে বাংলাহোপে থাকা মায়েদের কথা।

শুধু নিরুপমা নয়, বাংলাহোপে বেড়ে ওঠা এমন অনাথ শিশুদের মনের কথায় এটি। বলতে গেলে দু:স্থ অসহায় ও অনাথ শিশুদের আলোর পথ দেখাচ্ছে এতিমখানা ‘বাংলাহোপ’।

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’ এই ব্রত নিয়ে ২০০৪ সালে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন আমেরিকান দম্পতি ডেভিড এল ওয়েড এবং বেভারলি জে ওয়েড। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নে ব্যতিক্রমী এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের সুবিধাবঞ্চিত অনাথ ও অসহায় শিশুদের সহায় হিসেবে কাজ করছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দুরে হাজরাপুর গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাহোপ এতিমখানা। অনাথ ও অসহায় শিশুদের লালন পালনের পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলায় এর প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রায় ১৪ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা বাংলাহোপ এতিমখানার চার একর জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে চিলড্রেন হোমসহ বিভিন্ন ভবন। যেখানে শূন্য থেকে বিভিন্ন বয়সের ১৬১ অনাথ শিশু জীবন যাপনের পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষাগ্রহণ করছে। এতিমখানার অধিকাংশ শিশুই খ্রিস্টিয়ান সম্প্রদায়ের। ছোট শিশুদের লালন পালনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৬ জন মা’কে।

এতিমখানার শিশুদের নিয়ম মাফিক খাবার, ঘুম এবং খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষকসহ পুরো এতিমখানায় নিয়োগ রয়েছে ৭১ জন কর্মকর্তা কর্মচারী। আশ্রয়ের পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা পেয়ে ভীষণ খুশি প্রতিষ্ঠানের অনাথ শিশুরা।

এতিম শিশুদের দেখাশুনা করার দায়িত্ব পেয়ে খুশি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৬ জন মা। তাদের মধ্যে শান্তি কিসকু, বন্দনা বৈরাগী, নমিতা ও অর্চনা বলেন, ‘ছোট ছোট শিশুদের পরম আদরে তারা দেখাশুনা করছেন। শিশুরা যে এতিম মায়ের মমতায় তা তারা বুঝতে পারে না। আমাদেরও ভাল লাগে ছোট ছোট শিশুদের আদর যত্ন করার দায়িত্ব পেয়ে।’

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.