ইউক্রেনের খনিজ ‘দখল’ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চুক্তিতে সম্মত উভয় দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত খনিজ চুক্তির শর্তগুলোর বিষয়ে একমত হয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। এই চুক্তি হলে ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সসহ বিভিন্ন পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে।
ইউক্রেনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আসলে বেশ কয়েকটি সংশোধনী এনে এর সঙ্গে (চুক্তির শর্ত) একমত হয়েছি। এটিকে ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে দেখছি।’ তবে ওই কর্মকর্তা এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি।
জানা গেছে, চুক্তি করতে এর বিভিন্ন শর্তে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন। এ প্রেক্ষাপটে শুক্রবার ওয়াশিংটন সফর করবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ সময় হোয়াইট হাউসে এ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইউক্রেনের মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের প্রত্যাশা, যুদ্ধ শেষ হলে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ ইউক্রেনে মার্কিন সেনা অবস্থান করবে।
দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান এ যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেষ্টার মধ্যে ওয়াশিংটনের সমর্থন পেতেই এ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে কিয়েভ। তবে এ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার কোনো শর্ত নেই।
একটি সূত্র বলছে, ভবিষ্যতে ইউক্রেনে কোনো মার্কিন অস্ত্র যাবে কিনা– ওয়াশিংটকন ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতেই তা নির্ধারিত র্ যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যে অধিকার দাবি করেছিল, সেটি থেকে সরে এসেছে। তবে একই সঙ্গে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও দিচ্ছে না তারা, যা দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল।
ট্রাম্পের আশা, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে এসে এ সপ্তাহেই চুক্তিতে সই করবেন। আগামীকাল এ চুক্তিটি হওয়ার কথা রয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, ইউক্রেনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির নতুন মোড়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী চার বছরে ট্রাম্প ও তাঁর বৈদেশিক নীতিবিষয়ক দল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রয়োগ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেনের গণমাধ্যম ইউক্রেরাইনস্কা প্রাভডা বলছে, খনিজ চুক্তিতে সই করবেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এর মাধ্যমে দুই দেশ একটি পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলও গঠন করবে।
ইউক্রেনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের লিথিয়াম, টাইটানিয়াম, কয়লা, গ্যাস ও তেলের মজুত আছে, যা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ৫ শতাংশ বলে মনে করা হয়। সেখানে ১৯ মিলিয়ন টন গ্রাফাইটের প্রামাণিত মজুত আছে। এ পদার্থটি ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ইউরোপে যত লিথিয়াম মজুত আছে, তার এক-তৃতীয়াংশই ইউক্রেনে। এটি এখন যে ব্যাটারি তৈরি হয়, তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।