✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৪, | ২২:০১:৩৯ |২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ঘরের মাঠের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা আসর কাটাচ্ছে। তিন দলই এমন অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তারা বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য স্পর্শ বা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তিন দেশজুড়ে ১৭টি শহরে ছড়িয়ে থাকা এই বিশ্বকাপে অনেক দলই দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়া ও ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা।
সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে মেক্সিকো। শেষ বত্রিশে ইকুয়েডরকে হারিয়ে তারা ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের ম্যাচ জিতেছে। এখন তাদের সামনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ।
গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে সহজেই পরের পর্বে ওঠে মেক্সিকো। এরপর ইকুয়েডরের বিপক্ষেও দারুণ ফুটবল খেলে জয় তুলে নেয় তারা।
দলের হয়ে চার ম্যাচে তিন গোল করে নজর কেড়েছেন হুলিয়ান কিনিওনেস। অন্যদিকে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেস বিশ্বকাপে বহুদিনের গোলখরা কাটিয়ে প্রথম ম্যাচে গোল করার পর আবেগে কেঁদে ফেলেন।
কোচ হাভিয়ের আগুইরে এবার এমন একটি সাফল্যের অপেক্ষায়, যা তিনি ২০০২ ও ২০১০ সালে করতে পারেননি। ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে মেক্সিকো ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর আবারও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের দর্শকদের উচ্ছ্বাসে দারুণ ছন্দে রয়েছে। শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচটি দেশটির টেলিভিশন ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা ফুটবল ম্যাচে পরিণত হয়েছে।
কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর আক্রমণাত্মক ফুটবলের ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের খেলায়। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। পরে শেষ বত্রিশেও একজন কম নিয়ে খেলেও সহজেই জয় নিশ্চিত করে।
যদিও দলের অন্যতম ভরসা ফোলারিন বালোগুন পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না, তবুও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে কানাডা ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সেরা সাফল্য নিশ্চিত করেছে। প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠে তারা কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট ম্যাচও জেতে।
এবার তাদের সামনে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে শক্তিশালী মরক্কোর মুখোমুখি হবে কানাডা। তবে কোচ জেসি মার্শের বিশ্বাস, তার দল ইতোমধ্যেই দেশের মানুষের কাছে নায়কে পরিণত হয়েছে। তাই মরক্কোর বিপক্ষে তারা নির্ভার হয়েই মাঠে নামবে।
ঘরের মাঠ, পরিচিত পরিবেশ এবং সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন এই তিন শক্তিকে পুঁজি করেই ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লেখার পথে এগিয়ে চলছে তিন স্বাগতিক দেশ।