দ.লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৩, | ১৩:১৩:৪৮ |

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দাবির প্রেক্ষিতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান সোমবার বিষয়টি প্রকাশ করেছে। 

কান -এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবানন থেকে সম্ভাব্য ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি লেবাননের সেনাবাহিনীর জন্য একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিতব্য এসব আলোচনায় ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি তিনজন ইসরায়েলি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অংশ নেবেন।

এছাড়া, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠন শুরু করেছে বলে কান জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে কান আরও জানায়, ইসরায়েল এমন সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যে, মার্কিন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে তথাকথিত “নিরাপত্তা অঞ্চল”-এর কিছু এলাকা থেকে ধাপে ধাপে সরে যেতে বলা হতে পারে। এতে আস্থা-বর্ধক পদক্ষেপ হিসেবে লেবাননের সেনাবাহিনী ওই এলাকাগুলোতে পুনরায় মোতায়েন হতে পারবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে, যেখানে ইরান ও কাতার অংশ নেবে, তবে ইসরায়েল থাকবে না।

ইসরায়েলি সূত্রগুলোর মতে, এই ব্যবস্থায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ হলো ইরানের অংশগ্রহণ।

এর আগে সোমবার, ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় যে, ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইসরায়েলকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে—লেবাননে বাধাহীন সামরিক অভিযান চালানোর যে স্বাধীনতা আগে ছিল, তা এখন আর নেই।

এদিকে, মা’রিভ পত্রিকা জানিয়েছে যে লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে দক্ষিণ লেবাননের বিষয়টি বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, জ্বালানির মূল্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের প্রচেষ্টা।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিশ্বাস—দক্ষিণ লেবানন থেকে আগাম সেনা প্রত্যাহার দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হতে পারে এবং এটি হেজবুল্লাহর জন্য এক ধরনের পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই ঘটনাপ্রবাহের পটভূমিতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৮ ঘণ্টার আলোচনা করেছে। সেখানে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন অমীমাংসিত ধারা নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টিও ছিল।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে লেবাননে ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত, ১২,০০০-এর বেশি আহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে কিছু অঞ্চল বহু দশক ধরে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কিছু এলাকা ২০২৩–২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় দখল করা হয়েছিল।

সূত্র: আনাদোলু

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..