মন্ট্রিয়লে বন্দুক হামলা : পুলিশসহ তিনজন নিহত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৩, | ১৩:১০:৩১ |

কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে সশস্ত্র হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোট-দে-নিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে, যা শহরের অন্যতম জনবহুল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন সাধারণ নাগরিক এবং হামলাকারী নিজে। এছাড়া এক নারী পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হলেও বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই গোলাগুলির মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলাকারী একটি ভবনের ভেতর থেকে লম্বা অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালাচ্ছিল। পরে পুলিশের পাল্টা অভিযানে সে নিহত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাটি একাই চালিয়েছে ওই ব্যক্তি।

মন্ট্রিয়ল পুলিশের প্রধান ফাদি দাঘের এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটিকে 'একটি ট্র্যাজেডি' এবং 'দুঃস্বপ্ন' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, নিহত পুলিশ সদস্যের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্যও স্পষ্ট নয়।

ঘটনাস্থল কোট-দে-নিস এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস বেশি। এখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কোশের বাজার ও বিভিন্ন রেস্তোরাঁ রয়েছে। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ দ্রুত চারপাশ ঘিরে ফেলে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। একাধিক ব্যক্তি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দোকান ও রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়েন। অনেককে মাটিতে শুয়ে থাকতে নির্দেশ দেয় পুলিশ।

হামলার পেছনের কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশ ধারণা করছে, হামলাকারীর সঙ্গে তথাকথিত ‘ইনসেল’ মতাদর্শের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

এদিকে ঘটনাটি ইহুদিবিরোধী হামলা কি না, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে পুলিশ প্রধান ফাদি দাঘের সবাইকে গুজব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তদন্তে এখনো কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি।”

ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বিকেলের দিকে ধীরে ধীরে নিরাপত্তা বলয় শিথিল করা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীর পরিচয় এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তথ্য সূত্র- বিবিসি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..