জাতিসংঘের প্রতিবেদন

মিয়ানমারে সহিংসতা বাড়ছে: ছয় মাসে নিহত ৭ শতাধিক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৩, | ১৩:০৭:০৭ |

মিয়ানমারে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর গত ছয় মাসে সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জান্তা সরকারের দমন-পীড়নে এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে, যা দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহলের অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে জান্তা বাহিনীর নির্বিচার বিমান হামলায় প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন।

সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হয়েছে সাগাইং অঞ্চল। শুধু এই এলাকাতেই সামরিক অভিযানে ১৯১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবর মাসে সাগাইংয়ের চাউং-উ এলাকায় একটি বিদ্যালয়ের সামনে জনসমাগমে বিমান হামলায় চার শিশুসহ ২৩ জন নিহত হন। এছাড়া ডিসেম্বর মাসে তাবায়িন এলাকায় একটি চায়ের দোকানে হামলায় আরও ১৯ জন প্রাণ হারান।

প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর আরাকান আর্মি-এর নির্যাতন ও জোরপূর্বক সেনাদলে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, মিয়ানমারের জনগণ একদিকে সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থেকেও ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

পাঁচ বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি-কে আটক করে ক্ষমতা দখল করা জান্তা বাহিনী বর্তমানে কঠোর সামরিক আইন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে।

এদিকে গত এপ্রিল মাসে অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। তার সমর্থকদের নিয়ে গঠিত সংসদে জান্তাপন্থী দল প্রায় ৮০ শতাংশ আসনে জয় পেয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে মিয়ানমারের চলমান মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সূত্র : বিবিসি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..