সেরা উপায়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সূচনায় অস্ট্রেলিয়াও ছিল শতভাগ সফল। এবার এগিয়ে যাওয়ার পালা যেকোনো এক দলের। এমন লক্ষ্য নিয়েই আজ ‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। জয়ী দল এক পা রাখবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। তখন হেরে যাওয়া দল এবং গ্রুপের অপর দুই–তুরস্ক ও প্যারাগুয়ের লড়াই জমে উঠবে অবশিষ্ট এক স্পটের জন্য। তুরস্ক এবং প্যারাগুয়ে আগামীকাল (২০ জুন) সকাল ৯টায় মুখোমুখি হবে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে।
২০২৬ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে প্যারাগুয়েকে বিধ্বস্ত করে। ৪-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয়। তবে এবার সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়া দারুণ এক জয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। শক্তিশালী তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে সিয়াটল পৌঁছেছে। শুধু জয়ই নয়, নিজেদের রক্ষণভাগ অটুট রেখে তারা প্রমাণ করেছে যে, এই বিশ্বকাপে সহজে তারা হারবার পাত্র নয়। তাদের প্রতিরক্ষা অঞ্চল সহজে কাঁপবে না।
মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচকে ঘিরে গড়ে ওঠা আক্রমণভাগে রয়েছে গতি, সৃজনশীলতা ও গোল করার ক্ষমতা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দুই গোল করে ইতোমধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। পাশাপাশি স্কোরশিটে নাম লিখিয়ে নিজের ফর্মের ইঙ্গিত দিয়েছেন জিওভানি রেইনাও। মিডফিল্ডে ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও টাইলার অ্যাডামসের উপস্থিতি দলকে বাড়তি ভারসাম্য এনে দেয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বড় এক প্রশ্ন এসে দাঁড়াচ্ছে। তারা কি অস্ট্রেলিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারবে? টনি পোপোভিচের দল শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং কৌশলগতভাবে বেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বে টানা চার ম্যাচে অপরাজিত থেকে তারা বিশ্বকাপের মূল পর্বে এসেছে। অভিজ্ঞ জ্যাকসন আরভিন ও ম্যাথিউ লেকির মতো খেলোয়াড়রা দলের মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের কর্মক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা স্বাগতিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় তারা জানে নকআউটে খেলার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। এই ম্যাচ থেকে অন্তত একটা পয়েন্ট পেলে নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। ফলে পোপোভিচ হয়তো রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে খেলবেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ রুখে দিয়ে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজবেন। তুরস্কের বিপক্ষে এই পরিকল্পনা সফল হয়েছিল। এখন দেখার বিষয় পুলিসিচ ও বালোগুনদের বিপক্ষেও সেই কৌশল কার্যকর হয় কি না।
দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান কিছুটা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলছে। ইতিহাসে এখন পর্যন্ত দল দুটি চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দুই ম্যাচে জয় যুক্তরাষ্ট্রের, এক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার। অন্য ম্যাচটি ড্র হয়েছে। সর্বশেষ ম্যাচে জয় যুক্তরাষ্ট্রের। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ২-১ হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। এর আগে ২০১০ সালেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র জয় ১৯৯২ সালে। ১৯৯৮ সালের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল।
তবে অতীত পারফরম্যান্স এখানে খুব একটা কাজে আসবে না। বরং বর্তমান ফর্মই বিশ্বকাপে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্য ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা, দর্শকের সমর্থন এবং আক্রমণভাগের ধার তাদের এগিয়ে রাখছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ, দলগত শৃঙ্খলা ও পাল্টা আক্রমণের সামর্থ্য ম্যাচটিকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলতে পারে। গোলপোস্টে থাকবেন টার্নার। রক্ষণে ডেস্ট, ক্রিস রিচার্ডস, মাইলস রবিনসন ও অ্যান্টনি রবিনসন। আক্রমণে পুলিসিচ, বালোগুন ও টিমোথি ওয়েহ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া খেলতে পারে ৪-৪-২ ছকে। গোলপোস্টে ম্যাথিউ রায়ান। রক্ষণে ডেগেনেক, বার্গেস, সাউতার ও জর্ডান বস। আক্রমণে ইরানকুন্ডা ও হরস্টিচ।
এ জাতীয় আরো খবর..