✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৮, | ১৪:১৪:৫৭ |ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড়সড় ধাক্কা খেলো অন্যতম ফেভারিট পর্তুগাল। তুলনামূলক দুর্বল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রবের্তো মার্তিনেসের শিষ্যদের। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘কে’-এর এই ম্যাচে জোয়াও নেভেসের গোলে পর্তুগাল শুরুতে এগিয়ে গেলেও তা ধরে রাখতে পারেনি। উল্টো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং বের্নার্দো সিলভার মতো তারকাদের চরম অফ-ফর্মের দিনে হতাশাজনক এক ফুটবল উপহার দিয়েছে পর্তুগিজরা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য পর্তুগালের জন্য ছিল দারুণ আশাব্যঞ্জক। মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় উইঙ্গার পেদ্রো নেতোর চমৎকার এক ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন জোয়াও নেভেস। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তার চতুর্থ আন্তর্জাতিক গোল। তবে শুরুর এই ধাক্কা সামলে নিয়ে কঙ্গো যখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল, পর্তুগাল তখন উল্টো নিজেদের খেলার গতি কমিয়ে দেয়। মাঠের মধ্যে উদ্দেশ্যহীন পাসিংয়ের কারণে মার্তিনেসের দল আর কোনো বড় সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। এই সুযোগে ম্যাচের প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আর্থার মাসুয়াকুর ভাসানো ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে কঙ্গোকে সমতায় ফেরান ইয়োয়ান উইসা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জোয়াও কানসেলোর একটি দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক শট গোল লাইনের ভেতরে গেলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই বড় বাঁচা বেঁচে যায় পর্তুগাল, যখন কঙ্গোর সেড্রিক বাকাম্বু অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেসকে অনায়াসে পরাস্ত করে শট নেন এবং তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও পর্তুগালের আক্রমণে কিছুটা গতি এনেছিলেন। তিনি কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভেঙে ডিফেন্সের পিছন থেকে দুবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা দুইবারই গোল করতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত পর্তুগাল গোল করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা ডিআর কঙ্গো ম্যাচ থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয়।
ম্যাচ শেষে পর্তুগালের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে চারদিকে চলছে কড়া সমালোচনা। বিশেষ করে ফিফার বিশেষ বিবেচনায় বাছাইপর্বের নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া রোনালদো পুরো ম্যাচে ছিলেন খোলসের মধ্যে বন্দী। এই ম্যাচের পর বড় টুর্নামেন্টে টানা ৯টি ম্যাচে গোলহীন রইলেন সিআরসেভেন। একই সাথে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন খেলোয়াড় বের্নার্দো সিলভাও ডান প্রান্তে এতটাই নিষ্প্রভ ছিলেন যে প্রথমার্ধ শেষেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস ও গোলরক্ষক দিয়াগো কোস্তাও নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি, যার খেসারত দিতে হলো পুরো দলকে।
সূত্র: গোলডটকম