✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-৩০, | ১৩:১৬:৪৭ |গত মৌসুমের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের ক্ষত ভুলে এবার অধরা স্বপ্নপূরণের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আর্সেনাল। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে এবার গানার্সদের লক্ষ্য প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি ঘরে তোলা। তবে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) মতো দানবীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্যারিসের ফাইনালে মিকেল আর্তেতার দলের জন্য অপেক্ষা করছে এক পর্বতসম চ্যালেঞ্জ। পরিসংখ্যান বলছে, আসরে সবচেয়ে বেশি ৯টি ক্লিন শিট রাখা আর্সেনালের জমাট রক্ষণের সামনে আজ পরীক্ষা পিএসজির ৪৪ গোলের বিধ্বংসী আক্রমণের। তবে রক্ষণাত্মক ফুটবল নয়, পিএসজিকে তাদেরই মাঠে চেপে ধরার রণকৌশল নিয়ে ছক কষছেন গানার্স বস।
গত মৌসুমের মুখোমুখি লড়াইয়ে হারের তিক্ততা থাকলেও লুইস এনরিকের ‘ম্যান-টু-ম্যান’ হাই-প্রেসিং ফুটবলকে বোকা বানানোর দারুণ এক সূত্র পেয়েছিলেন আর্তেতা। ফরাসি দলটির আক্রমণাত্মক প্রেসিং ভাঙতে প্রথাগত স্ট্রাইকার ছাড়া মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো বা কাই হাভার্টজকে 'ফলস নাইন' হিসেবে খেলানোর কৌশল এবারও কাজে আসতে পারে। পিএসজির ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচো যদি মেরিনোকে পাহারার জন্য নিজের লাইন ছেড়ে বেরিয়ে না আসেন, তবে মাঝমাঠে আর্সেনাল একজন বাড়তি খেলোয়াড়ের সুবিধা পাবে। আর যদি পিএসজির মিডফিল্ড মেরিনোকে রুখতে এগিয়ে আসে, তবে ডেক্লান রাইসের মতো ফুটবলাররা ফাঁকা জায়গা পেয়ে যাবেন। একই সাথে গোলরক্ষক ডেভিড রায়া কিংবা উইলিয়াম সালিবার লম্বা পাসের সুবিধা নিয়ে মাঝমাঠে বলের দখল নেওয়ার ক্ষেত্রে মেরিনো ও হাভার্টজের দক্ষতা বড় অস্ত্র হতে পারে।
পিএসজির জমাট রক্ষণ ভাঙতে হলে আর্সেনালকে এবার তাদের চেনা বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে একটু ঝুঁকি নিতে হবে। সাধারণত আর্সেনাল মাঠের মাঝখান দিয়ে আক্রমণ না করে উইং দিয়ে নিরাপদ ফুটবল খেলতেই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু চেলসি বা বায়ার্ন মিউনিখের মতো দলগুলো দেখিয়েছে যে, পিএসজির বিপক্ষে বক্সের ঠিক বাইরে ছোট ছোট পাসে জটলা তৈরি করে প্রতিপক্ষকে টেনে হিঁচড়ে ওপরে তুলে আনা সম্ভব। এতে মাঠের অন্য প্রান্তে যে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হয়, সেখান থেকেই আক্রমণ শাণানো সহজ হয়। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড, বুকায়ো সাকা, মার্টিন জুবিমেন্ডি কিংবা এবারিজ ইজের মতো ফুটবলাররা অল্প জায়গার মধ্যে বল ধরে রেখে পিএসজির রক্ষণভাগকে ভেঙে চুরমার করার সামর্থ্য রাখেন।
তবে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে আর্সেনালের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা হলো তাদের সেট-পিস। টমাস ফ্রাঙ্কের স্পার্স এই মৌসুমে পিএসজির বিপক্ষে হেরে গেলেও সেট-পিস থেকে বেশ কটি গোল আদায় করে তাদের দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। পিএসজির রক্ষণভাগ সাধারণত বাতাসে ভেসে আসা ক্রস সামলাতে হিমশিম খায়, বিশেষ করে ফার-পোস্টে বল পাঠিয়ে যখন আবার ব্যাক-হেড করা হয়। সেট-পিসের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আর্সেনালের ফুটবলাররা যদি পিএসজির ডি-বক্সে আতঙ্ক তৈরি করতে পারেন, তবে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার স্বপ্নটা আজ রাতেই সত্যি হতে পারে আর্তেতার শিষ্যদের।
বিবিসির প্রতিবেদন