✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৪, | ০১:১৫:৪০ |জনসংখ্যার অব্যাহত পতন ও রেকর্ড পরিমাণ কম জন্মহার মোকাবিলায় নতুন জন্মহার স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে চীন। এ লক্ষ্যে পরিবারগুলোকে আরও বেশি নীতিগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা বা স্টেট কাউন্সিল। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্টেট কাউন্সিল জানিয়েছে, একটি ‘জন্মহারবান্ধব সমাজ’ গড়ে তুলতে সরকারকে বিবাহ, সন্তান জন্মদান, লালনপালন ও শিক্ষাসংক্রান্ত নীতিগুলো পরিমার্জন করতে হবে। একই সঙ্গে করব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আবাসন নীতিরও সংস্কার প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের জনসংখ্যা ২০২৫ সালে টানা চতুর্থবারের মতো কমেছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিয়ে নিবন্ধনের হারও প্রায় ৭.৫ শতাংশ কমেছে।
মন্ত্রিসভার এই নতুন উদ্যোগ থেকে স্পষ্ট যে, চীনের নীতিনির্ধারকেরা ক্রমহ্রাসমান ও বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে দেশের সামাজিক বিমাব্যবস্থা ও সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে চীনের অর্থনীতি ইতিমধ্যে চাপে রয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে কর্মকর্তারা বলেন, ‘জনসংখ্যা হলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি।’ তারা জোর দিয়ে বলেন, মানসম্মত জনসংখ্যা উন্নয়ন দেশের মানসম্মত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে আরও ভালোভাবে সহায়তা করতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে জন্মহার বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দেশজুড়ে শিশু কেয়ার ভর্তুকি কর্মসূচি চালু এবং প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার ফি মওকুফ বা কমানোর মতো উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিয়ে ও সন্তান জন্মদানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি মৌলিক জনসেবায় বৈষম্য কমানোর ওপরও জোর দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিশেষ করে কয়েক দশকের পুরোনো পারিবারিক নিবন্ধন বা ‘হাউসহোল্ড রেজিস্ট্রেশন’ ব্যবস্থা সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে গ্রাম থেকে শহরে আসা কর্মীরা সহজেই শহরের সরকারি স্কুলগুলোতে সন্তানদের ভর্তি করানোসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা পাবেন।