✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২২, | ১২:৪০:৪৯ |নিয়মিত চা পান করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমে, তা অনেকেরই জানা। তবে সম্প্রতি ‘জার্নাল অব ইন্টারনাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চা কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে এবং পান করা হচ্ছে, তার ওপরও মানুষের কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য নির্ভর করে।
গবেষকেরা ৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ৪ লাখ ৮৫ হাজারেরও বেশি চীনা প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। প্রায় নয় বছরের ফলোআপে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (হাত ও পায়ের রক্তনালির সংকোচন)-এর মতো ১৪ হাজার ৮০০টিরও বেশি রোগের ঘটনা নথিভুক্ত করেন তারা। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা সপ্তাহে কত দিন চা পান করেন, কোন ধরনের চা পছন্দ করেন, কতটা কড়া এবং কতটা গরম চা পান করেন—সেসব তথ্য জানান।
গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে সিএনএনের ওয়েলনেস বিশেষজ্ঞ এবং জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. লিয়ানা ওয়েন বলেন, যারা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চা পান করেন, তাদের ভাস্কুলার ডিজিজ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম। বয়স, ধূমপান, শারীরিক কার্যকলাপ এবং ওজন বিবেচনায় নিয়ে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে যারা ধূমপান করেন না, নিয়মিত চা পান করেন এবং বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাঝারি কড়া চা পানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। সবুজ চায়ের (গ্রিন টি) তুলনায় কালো চা (ব্ল্যাক টি) হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বেশি কার্যকর। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, যারা ‘অতিরিক্ত গরম’ চা পান করেন, তাদের ভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে যারা স্বাভাবিক বা সহনীয় গরম চা পান করেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ডা. ওয়েন জানান, চায়ে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে কাজ করে। এগুলো রক্তনালি ভালো রাখতে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, চা অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করা উচিত নয়, কারণ এতে মুখ ও গলা পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই চা আরামদায়ক তাপমাত্রায় এলে পান করা উচিত। পাশাপাশি চিনিমুক্ত চা পানের অভ্যাস হৃদযন্ত্রের জন্য বেশি উপকারী।