✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২২, | ১১:৫৬:৩৫ |নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়ার কাছে মাসায়া আগ্নেয়গিরির নিচে আগে শনাক্ত না হওয়া দুটি ম্যাগমা বা গলিত শিলার ভান্ডারের প্রমাণ পেয়েছেন পেন স্টেটের বিজ্ঞানীরা। প্রায় ২০ লাখ মানুষের কাছাকাছি অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটির অগ্ন্যুৎপাতের পূর্বাভাস উন্নত করতে এই গবেষণা সহায়ক হতে পারে। তবে পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিক বিপদের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ছয় বছরের উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা মাসায়ার আশপাশের ভূমির সূক্ষ্ম পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স সাময়িকীতে।
এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টারফেরোমেট্রিক সিনথেটিক অ্যাপারচার রাডার বা ইনসার প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতার অতি সামান্য পরিবর্তনও শনাক্ত করা যায়। ক্রান্তীয় অঞ্চলে সাধারণত দেখা দেওয়া মেঘের আবরণ ভেদ করেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এই প্রযুক্তি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগ্নেয়গিরির একটি অংশের ভূমি প্রথমে নিচে নামলেও পরে উঁচু হতে শুরু করে। গবেষকদের ধারণা, গভীরে থাকা একটি ভান্ডারে নতুন ম্যাগমা প্রবেশের কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, সক্রিয় সান্তিয়াগো জ্বালামুখ ও এর উজ্জ্বল লাভা হ্রদের চারপাশের ভূমি পুরো পর্যবেক্ষণকালেই নিচে নেমেছে। এটি তুলনামূলক কম গভীরতায় থাকা আলাদা একটি ভান্ডার থেকে ম্যাগমা সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
গবেষণার প্রধান লেখক লিজি জনসন ব্যাখ্যা করেছেন, ভূমি নিচে নামার অর্থ হতে পারে আগ্নেয়গিরি থেকে ম্যাগমা সরে যাচ্ছে। আবার ভূমি উঁচু হতে থাকলে নতুন ম্যাগমা প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে।
গবেষণার সহলেখক ইয়ং চিওল কিমের মতে, ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ আগ্নেয়গিরির স্বাভাবিক কার্যক্রম বুঝতে এবং পরিবর্তন শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই স্বাভাবিক আচরণ জানা থাকলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন চিহ্নিত করে আশপাশের মানুষকে সময়মতো সতর্ক করা সহজ হতে পারে।
মাসায়া একটি জাতীয় উদ্যান ও জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। সেখানে সর্বশেষ বড় লাভাপ্রবাহ হয়েছিল ১৭৭২ সালে। তবে আগ্নেয়গিরিটি নিয়মিত সালফার ডাইঅক্সাইড ছাড়ে। এই গ্যাসের ঘনত্ব দর্শনার্থী ও আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।