✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২১, | ২০:৪৫:০৫ |ফ্রান্সের পর এবার জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের বিরুদ্ধে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের রাজপথে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এথেন্স ছাড়াও দেশটির উত্তরভাগের শহর থেসালোনিকি এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী পাত্রাসসহ বেশ কয়েকটি শহরে একই ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা এথেন্সের গ্রিক পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের ছাত্রাবাস বা শিক্ষার্থী আবাসন নিশ্চিত করা এবং শিক্ষায় আরও বেশি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের দাবি জানান। ফ্রান্সে ও স্পেনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তারা এই আন্দোলন গড়ে তোলেন। এথেন্সের বিক্ষোভে একটি ফেস্টুনে লেখা ছিল, ‘গ্রিস থেকে ফ্রান্স, শিক্ষায় অর্থ দিন।’ এছাড়া অন্য শিক্ষার্থীরা ফরাসি ভাষায় লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়েছিলেন, যাতে লেখা ছিল, পড়াশোনা করব নাকি বেঁচে থাকব?
শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জ্বালানির বর্ধিত দাম এবং স্কুলগুলোর বেহাল দশা ও শিক্ষার্থীর আবাসন সংকটের কারণে পুরো ইউরোপ জুড়েই ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে ফ্রান্স, ইতালি এবং আলবেনিয়ার বিক্ষোভগুলো সহিংস রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গ্রিসের রক্ষণশীল সরকার জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে কড়া সমালোচনা করেন ২০ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী পানাঙ্গিওতিস মোসকোনাস। তিনি জানান, সরকার দাবি করে যে তারা প্রতি মাসে ১২০ ইউরো (প্রায় ১৩৫ মার্কিন ডলার) হারে বাড়িভাড়া ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করছে। কিন্তু এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে অর্ধেক বাড়ির ভাড়াও হয় না, উপরন্তু সেই টাকা দেওয়া হয় বছরের শেষে।
বিক্ষোভের কারণে শিক্ষকরাও বুধবার ধর্মঘটের ডাক দেন, যদিও কিছু স্কুল খোলা ছিল। শিক্ষক ইওয়ানিস রোম্পাস বলেন, আজ আমরা ধর্মঘট ডেকেছি কারণ আমাদের পরিবারের জন্য এই পরিস্থিতি আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। উচ্চ ব্যয় এবং মাসের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে। এছাড়া বছরের পর বছর ধরে স্কুলের অভ্যন্তরীণ অবস্থাও মারাত্মকভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে।
বিক্ষোভের সময় পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিল দাঙ্গা পুলিশ। এছাড়া বিক্ষোভের দিকে যাওয়া লোকজনকে আটকে পুলিশ তল্লাশি চালায় এবং ব্যাগ চেক করে। গ্রিসের বিক্ষোভ প্রায়শই সহিংস রূপ নিয়ে থাকে, যার ফলে মিছিলের আশপাশের দোকান ও ক্যাফেগুলো তাদের কাচের জানালার সুরক্ষায় লোহার শাটার নামিয়ে দেয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস