✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২১, | ১৫:১২:৩৩ |পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন একটি চালান কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে।
বুধবার সকাল ১০টা ৩ মিনিটে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ে জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প চত্বরে প্রবেশ করে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আসার কথা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই নতুন চালানটি আনা হলো। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরও আটটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের বাকি চালানগুলো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রসাটম’ জানিয়েছে, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানিবাহী বিশেষ বিমান ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দর থেকেই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জ্বালানি বুঝে নেন। আজ বুধবার ভোরে তিনটি লরিতে করে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জ্বালানি বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। ঢাকা থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে সুনির্দিষ্ট রুট ধরে লরিগুলো নিরাপদে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
পথিমধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসএসএফ (নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংশ্লিষ্ট বাহিনী) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মহাসড়কে যানজট এড়াতে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাত্রাপথে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত রাখা হয়।
এর আগে, গত ৩ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপন (রিফুয়েলিং) এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা পারমাণবিক জ্বালানির একটি চালান কেন্দ্রে পৌঁছায়।
২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য জ্বালানি দেশে আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১১ অক্টোবর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্রটির কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।