✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৭, | ১৪:১০:৩৪ |মাছ শিকারের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলায় ভোলার উপকূলজুড়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার জেলে পরিবার। জেলায় সরকারি নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ জন এবং পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজারের বেশি অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। নিবন্ধিত জেলেরা কিছু সরকারি সহায়তা পেলেও কোনোপ্রকার সাহায্য না পাওয়ায় অনিবন্ধিত এসব প্রকৃত জেলেদের দিন কাটছে চরম অনাহার ও মানবেতর পরিস্থিতিতে।
ভোলা সদর উপজেলার সোনাডগী গ্রামের জেলে জাকির হোসেন দুঃখপ্রকাশ করে জানান, তার তিন মেয়েকে নিয়ে মাছ শিকার করেই সংসার চালাতে হয়। অথচ ছোটবেলা থেকে এ পেশায় থাকা সত্ত্বেও তার একটি জেলে কার্ড নেই। এর ফলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তিনি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
একই আক্ষেপ প্রকাশ করে তেঁতুলিয়া নদীর জেলে মোফাজ্জল মাঝি জানান, বংশের মধ্যে কোনোদিন জেলে ছিলো না এমন লোকও এখন জেলে কার্ডের চাল পাচ্ছে, আর তারা আসল জেলে হয়েও চাল পান না।
দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী আরিফ হোসেনের মতে, নিবন্ধিত জেলেরা সরকারি সহায়তায় কিছুটা সাপোর্ট পেলেও অনিবন্ধিত জেলেদের পরিবারগুলোর বেঁচে থাকাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলেদের এই দুরবস্থা ও সহায়তার বৈষম্য নিয়ে ভোলার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির নেতা আল মামুন বলেন, জেলেদের সঙ্গে বড় ধরনের বৈষম্য চলে, যেখানে আসল জেলেরা বঞ্চিত হয় আর নকল বা ভুয়া জেলেরা চাল পায়।
এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস জানান, বর্তমানে নিবন্ধিত জেলেদের সরকারি চাল দেওয়া হচ্ছে এবং অনিবন্ধিত জেলেদেরকেও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসাইন জানান, বিদ্যমান জেলে কার্ড অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং যারা এখনও তালিকাভুক্ত হননি, তাদেরকেও অতি দ্রুত কার্ডের আওতায় এনে সহায়তার পথ সুগম করা হবে।