✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৫, | ১৪:০০:৩০ |বিগ ব্যাশের আগামী আসরেও হোবার্ট হারিকেনসের জার্সিতে দেখা যাবে বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে। ষোড়শ আসরের জন্য তাকে দলে রেখে বোলিং আক্রমণে আরও শক্তি বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এবার দলের স্পিন আক্রমণে রিশাদের সঙ্গী থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার সাদা বলের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বোলার অ্যাডাম জাম্পা।
বিগ ব্যাশে অভিষেক আসরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন রিশাদ। ১২ ম্যাচে ২০.৮৬ গড়ে শিকার করেছিলেন ১৫ উইকেট। ওভারপ্রতি রান দিয়েছিলেন ৭.৮২ করে। তার সেরা বোলিং ছিল ২৬ রানে ৩ উইকেট। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে মৌসুম শেষে হোবার্ট হারিকেনসের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এই বাংলাদেশি লেগ স্পিনার।
রিশাদকে আবারও দলে পেয়ে সন্তুষ্ট হোবার্ট হারিকেনসের উচ্চ কর্মদক্ষতা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্যালিয়ান বিমস। তার মতে, হোবার্টে ফেরার ব্যাপারে রিশাদের আগ্রহ চুক্তি চূড়ান্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিমস বলেন, ‘গত মৌসুমে হোবার্টে সময়টা রিশাদের খুব ভালো কেটেছিল। সে আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, আবারও ফিরতে চায়। বিষয়টি আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাডাম জাম্পাকে দলে নেওয়ায় আমাদের দল গঠনের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছিল। তবে রিশাদের মতো মানসম্পন্ন একজন খেলোয়াড় যখন হারিকেনসে ফেরার ব্যাপারে এতটা আগ্রহী, তখন তাকে ফেরানোর সব সম্ভাবনাই আমরা খতিয়ে দেখতে চেয়েছি।’
রিশাদের গত মৌসুমের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বিমস বলেন, ‘প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে এসে প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেওয়া এবং দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়া তার সামর্থ্য ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার প্রমাণ।’
দলের স্পিন আক্রমণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের দলে দুইজন মানসম্পন্ন লেগ স্পিনার রয়েছে। তাদের বোলিংয়ের ধরন ও শক্তির জায়গা আলাদা। ফলে মাঠের পরিস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা বিভিন্ন কৌশল কাজে লাগাতে পারব।’
জাম্পার অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করে বিমস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডাম বিশ্ব ক্রিকেটের সাদা বলের অন্যতম সেরা বোলার। আর গত গ্রীষ্মে আমরা দেখেছি, মাঝের ওভারগুলোতে রিশাদ কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। দুজনকে একই দলে পাওয়ায় আমাদের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়বে এবং বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’
হোবার্ট হারিকেনসের সঙ্গে রিশাদের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। চতুর্দশ আসরের খেলোয়াড় বাছাইয়ে তাকে দলে নিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার ব্যস্ততায় সেবার হোবার্টের হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।
গত মৌসুমে অবশেষে বিগ ব্যাশে অভিষেক হয় রিশাদের। এরপর দ্রুতই দলের অন্যতম কার্যকর উইকেটশিকারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই লেগ স্পিনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে চলেছেন। বলকে বাতাসে ভাসিয়ে ব্যাটারকে আক্রমণ করা এবং টার্ন আদায়ের দক্ষতা তাকে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্য লেগ স্পিনারদের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
বিগ ব্যাশের ষোড়শ আসরে হোবার্ট হারিকেনসের দল: মার্কাস বিন, আইন কার্লাইল, নিখিল চৌধুরী, টিম ডেভিড, নাথান এলিস, রিশাদ হোসেন, নিক হবসন, শাই হোপ, বেন ম্যাকডারমট, রাইলি মেরেডিথ, মিচ ওয়েন, উইল প্রেস্টউইজ, বিলি স্ট্যানলেক, টিম ওয়ার্ড, জেক ওয়েদারাল্ড, বিউ ওয়েবস্টার ও অ্যাডাম জাম্পা।