✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০৯, | ১২:৩০:৪৬ |বেইজিংয়ের তীব্র আপত্তি ও কূটনৈতিক চাপের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন প্রায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সেই বাধাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাইপে শহরের আকাশে হেলিকপ্টারে ঝুলে থাকা একটি বিশাল পতাকা উড়তে দেখা গেছে।
প্যারাসুটের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের হালকা কিন্তু অত্যন্ত শক্ত কাপড়ে তৈরি করা হয়েছে ১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮ মিটার প্রস্থের (৪০ ফুট বাই ৬০ ফুট) এই বিশাল পতাকাটি। ওড়ার সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি একটি দীর্ঘ ও ভারী কেবলের সাহায্যে হেলিকপ্টারের তলদেশে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
চীন ক্রমাগত তাইওয়ানের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ বৃদ্ধি করায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়। প্রতি বছর ১০ অক্টোবর জাতীয় দিবস উদযাপনের সময় তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জোড়া রোটরবিশিষ্ট মার্কিন চিনুক সিএইচ-৪৭এসডি হেলিকপ্টারের নিচে একটি বিশালাকার পতাকা ঝুলিয়ে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং সেসময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
শনিবার সকালে উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সেখান থেকে তিনি তার সরকারের নীতিগত উদ্দেশ্যগুলো ঘোষণা করার পাশাপাশি প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে থাকে চীন। বিশ্বের অন্যান্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে তাইপে যাতে স্বাধীনভাবে কোনো প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারে, সেজন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেইজিং। এমন পরিস্থিতির কারণে অলিম্পিক গেমসের মতো বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতেও তাইওয়ান নিজের পতাকা ব্যবহার করতে পারে না। সেখানে তাদের চায়নিজ তাইপে নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় এবং নিজেদের জাতীয় পতাকার বদলে একটি বিশেষভাবে তৈরি প্রতীক ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়। উল্লেখ্য, বেইজিং ও তাইপে; কোনো সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরকে স্বীকৃতি দেয় না।
তাইওয়ানের এই জাতীয় দিবস উদযাপন প্রসঙ্গে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে গত বছর প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ভাষণের পর বেইজিং তাঁকে "সমস্যা সৃষ্টিকারী, বিপদের রূপকার এবং যুদ্ধের উস্কানিদাতা" বলে আখ্যায়িত করেছিল।
চলতি সপ্তাহে তাইপে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সংশান বিমানবন্দরে এই ফ্লাইপাস্টের মহড়ায় অংশ নেন ৪০ বছর বয়সী হেলিকপ্টার পাইলট লিন চ্যাং-চেং। এই উড্ডয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আকাশে ঝুলে থাকা এই বিশালাকার পতাকাটি আসলে জাতীয় সার্বভৌমত্বের এক বাস্তব ও শক্তিশালী প্রতীক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে তাইওয়ানকে প্রতিনিয়ত অনেক বাধা ও দমন-পীড়নের মুখোমুখি হতে হয়, তাই আকাশে নিজেদের এই জাতীয় পতাকা উড়তে দেখার মুহূর্তটি তাদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন এক অনুভূতির জন্ম দেয়।
১৯১১ সালের এক বিপ্লবের স্মরণে প্রতি বছর এই জাতীয় দিবস পালন করে তাইওয়ান। সেই বিপ্লবের মধ্য দিয়েই চীনের সর্বশেষ রাজবংশের পতন ঘটেছিল এবং 'রিপাবলিক অব চায়না' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের কমিউনিস্ট পার্টির কাছে গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়ে রিপাবলিক অব চায়না সরকার মূল ভূখণ্ড ছেড়ে তাইওয়ানে পালিয়ে আসে, অন্যদিকে কমিউনিস্টরা গঠন করে পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। কাগজে-কলমে রিপাবলিক অব চায়না এখনো তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম হিসেবেই রয়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স