✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান ১০২ সাবেক ফরাসি-ব্রিটিশ কূটনীতিকের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৩, | ১৪:১৪:৩৬ |

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক।

এক যৌথ খোলা চিঠিতে তারা দুই দেশের সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য মঁদে প্রকাশিত চিঠিতে সাবেক কূটনীতিকরা বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্তমান নীতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে স্থায়ীভাবে নস্যাৎ করে দিতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে যৌথভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক সহিংসতা- যার সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে- ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল। সাবেক কূটনীতিকদের ভাষ্য, বিশ্বের কাছে ইসরায়েলের ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা আর আগের মতো নেই।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোনস প্যারি এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ফ্রান্সের সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ইভস অউবিন দ্য লা মেজুসিয়ের ও দ্যনি বোশার্ড রয়েছেন।

সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটন বলেন, চিঠিতে ব্যবহৃত কঠোর ভাষা কূটনীতিকদের নিজস্ব উদ্ভাবন নয়; বরং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এসব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

কথা নয়, এখনই পদক্ষেপ দরকার
সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার মিলেট বলেন, কয়েক বছর ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখন ‘কথা নয়, পদক্ষেপ’ নেওয়ার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য সম্পর্ক, ইসরায়েলি বসতি, গাজায় মানবিক সহায়তা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য- সব ক্ষেত্রেই বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।

চিঠিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইইউ-ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করা, ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা।

এছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে ইউএনআরডব্লিউএর মাধ্যমে গাজায় বাধাহীন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাংবাদিক, কূটনীতিক ও আইনপ্রণেতাদের জন্যও গাজায় নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আহ্বান
ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের মধ্যেই এই আহ্বান জানানো হলো। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করেছে প্রতিবেদনে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত এক হাজার ২৮৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সাবেক কূটনীতিকদের মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব সম্ভাবনাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, এখন সেই স্বীকৃতিকে ‘জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তব রূপ’ দিতে হবে।

চিঠিতে ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বেরও সমালোচনা করা হয়েছে। বর্তমান ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে ‘অপ্রতিনিধিত্বশীল ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে সাবেক কূটনীতিকদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। নিকোলাস হপটন বলেন, ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রেরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..