✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

টক্কর হবে সেয়ানে সেয়ানে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৯, | ২০:৪২:০৩ |

ফুটবল খেলায় ইদানীং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যকে একটু বেশিই গুরুত্ব দেওয়া হয়, বিশেষ করে ইংলিশ ফুটবলে দলগত পারফরম্যান্সের চেয়ে কোনো একজন ফুটবলারকে বড় করে দেখার প্রবণতা প্রবল। কিন্তু আধুনিক ফুটবল আসলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, এটি সম্পূর্ণ একটি সামষ্টিক বা দলগত খেলা। চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের দাপুটে জয় কোনো একক জাদুতে আসেনি বরং মাঠের পজিশন, নিখুঁত টাইমিং এবং ফুটবলীয় দর্শনের প্রতি দলগত বোঝাপড়ার দারুণ প্রতিফলন ছিল সেটি। রদ্রি, লামিন ইয়ামাল কিংবা পেদ্রির মতো বিশ্বমানের ফুটবলারদের উপস্থিতির চেয়েও বড় শক্তি হলো স্পেনের দীর্ঘদিনের ফুটবলীয় সংস্কৃতি। স্প্যানিশ ফুটবলাররা মাঠের ভেতরে খুব দ্রুত প্রতিপক্ষকে সংখ্যায় পরাস্ত করতে পারে এবং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার এই বিদ্যা তাদের একদম ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়। স্পেনের এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা ও দলগত শক্তির কারণেই এবারের ফাইনালে তাদের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

রদ্রিকে অনেকেই বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচনা করেন। তার ট্যাকটিক্যাল ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষমতা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। কিন্তু স্পেনের আধিপত্য শুধু তার ওপর নির্ভরশীল নয়। গত ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালের কথা মনে করলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়, যেখানে প্রথমার্ধে রদ্রি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পরও মার্তিন জুবিমেন্দি এসে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ একইভাবে ধরে রেখেছিলেন। স্পেনে আট বছর বয়স থেকে শুরু করে ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি ছেলে ও মেয়েকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো এবং ফুটবল দর্শনের মধ্য দিয়ে বড় করা হয়, যেখানে চার-তিন-তিন ফরমেশন তাদের মূল ভিত্তি। 

তবে এই কাঠামোর মধ্যেও তারা দারুণ নমনীয়। যেমন গত ইউরোতে তারা আলভারো মোরাতার মতো প্রথাগত স্ট্রাইকার নিয়ে খেলেছিল, আর এবার খেলছে মিকেল ওয়ারজাবালের মতো ফলস নাইন নিয়ে। পজিশন অদলবদল করা এবং মাঠের যেকোনো প্রান্তে নিজেদের সংখ্যাগত সুবিধা তৈরি করার এই বিশেষ স্প্যানিশ শৈলী মূলত ইয়োহান ক্রুইফের বার্সেলোনা আমল থেকে চলে আসছে। যুব পর্যায়ে ইউরোপের সব টুর্নামেন্টে স্পেনের ছেলে ও মেয়েদের রেকর্ডসংখ্যক ট্রফি জয়ই প্রমাণ করে যে তাদের এই গভীর শিকড় কতটা শক্তিশালী।

অন্যদিকে ফাইনালের অপর প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের এক দলগত শক্তির প্রতীক। তারা মাঠে যেভাবে জাতীয় সঙ্গীত গায়, যেভাবে প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণাত্মক প্রেসিং বজায় রাখে কিংবা একে অপরের প্রতি যে ভালোবাসা ও আকুলতা দেখায়, তা ক্রীড়াবিশ্বে সত্যিই বিরল। আলবিসেলেস্তেরা মাঠের বৈরী পরিস্থিতিকে খুব ভালো সামলাতে পারে। তারা যেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের একেকজন অদম্য যোদ্ধা, যারা বল পজিশনে পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই ছাড়ার পাত্র নয়। স্পেনের প্রেসিং ভাঙার অনন্য ক্ষমতা ও পাসিং গেমের বিপরীতে আর্জেন্টিনার এই ইস্পাতকঠিন ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানসিক দৃঢ়তার কারণে ফাইনালটি হতে যাচ্ছে এক মহাকাব্যিক লড়াই।

সূত্র: গার্ডিয়ান

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..