✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

এমবাপ্পের ঝড় থামাবেন ইয়ামাল?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৪, | ১৪:৫৪:৪১ |

ফুটবলবিশ্বের নতুন আকর্ষণ কিলিয়ান এমবাপ্পে আর লামিনে ইয়ামালের লড়াই। একসময় লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ভক্তদের মধ্যে ছিল দারুণ উত্তেজনা। দুজন এখন দুই মেরুতে ফুটবল খেলেন। এ দুজনের লড়াইয়ের উত্তাপ এখন ভর করেছে ইয়ামাল-এমবাপ্পের মধ্যে। স্প্যানিশ লিগে দুই তারকার লড়াই দেখে মুগ্ধ হন দর্শকরা। এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইয়ামাল-এমবাপ্পে ফুটবল যুদ্ধ দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ফুটবলপ্রেমীরা। আজ রাতেই মাঠে নামছেন দুজন।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই তারকার মেলা। তবে আজ আর্লিংটনে স্পেন ও ফ্রান্সের লড়াইয়ে আলোটা সবচেয়ে বেশি থাকবে দুজনের ওপর, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামাল। একজন ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ জয় করেছেন (২০১৮ সালে)। আরেকজন মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ফুটবলবিশ্বের নতুন বিস্ময় হয়ে উঠেছেন। মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের সঙ্গে তাই শুরু হচ্ছে দুই প্রজন্মের দুই সুপারস্টারের ব্যক্তিগত দ্বৈরথও।

এমবাপ্পের বিশ্বকাপের গল্প শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফাইনালে গোল করে ফ্রান্সকে শিরোপা উপহার দেন তিনি। পেলের পর দ্বিতীয় তরুণ হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কীর্তি গড়েন এমবাপ্পে। এরপর ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও শিরোপা ছুঁতে পারেননি। এবার তার লক্ষ্য টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা। ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর আর কেউ করতে পারেননি এমনটা।

অন্যদিকে ইয়ামালের বিশ্বকাপ যাত্রা এবারই প্রথম। তবে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে তার অপেক্ষা করতে হয়নি। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্সের বিপক্ষে করা সেই অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার গোল এখনো ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে তাজা। ইয়ামাল সেই টুর্নামেন্টে সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। আর স্পেন জয় করে ইউরোপের শিরোপা।

দুই তারকার সর্বশেষ বড় লড়াই হয়েছিল ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে। সেদিন যেন গোলের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছিল স্পেন। ইয়ামাল করেছিলেন জোড়া গোল। এমবাপ্পেও গোল করেছিলেন। কিন্তু শেষ হাসি হেসেছিল স্পেনই। শুধু সেই ম্যাচ নয়, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত দুই বছরে ১০ বার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। সেখানে ইয়ামালের দল জিতেছে আটবার। এমবাপ্পের ভাগ্যে জয় এসেছে মাত্র দুই ম্যাচে। তাই পরিসংখ্যানও এবার স্প্যানিশ বিস্ময় বালকের পক্ষেই কথা বলছে।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চ আলাদা। এখানে এমবাপ্পে যেন অন্য এক ফুটবলার। চলতি আসরে ইতোমধ্যে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন তিনি। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ২০। মেসির সর্বকালের ২১ গোলের রেকর্ড ছুঁতে তার দরকার আর মাত্র একটি গোল। ফলে স্পেনের বিপক্ষে নামার আগে ব্যক্তিগত আর দলীয়, দুই ধরনের ইতিহাসই হাতছানি দিচ্ছে ফরাসি অধিনায়ককে।

অন্যদিকে ইয়ামাল প্রতি ম্যাচেই দারুণ প্রভাব বিস্তার করলেও গোল করেছেন কেবল একটি। তবু তার গতি, ড্রিবলিং আর সৃজনশীলতা স্পেনের আক্রমণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি অবশ্য মনে করেন, ইয়ামালকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। নিজের গুরুত্ব প্রমাণের অতিরিক্ত তাড়না মাঝেমধ্যে তার খেলায় প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুধু এমবাপ্পে-ইয়ামাল নয়, আজকের ম্যাচটি হবে দুই তারকাখচিত দলের শক্তিরও পরীক্ষা। ফ্রান্সের আক্রমণে এমবাপ্পের সঙ্গে আছেন উসমান দেম্বেলে ও দেসিরে দুয়ের মতো তরুণ তারকারা। মাঝমাঠে মাইকেল ওলিসে, চুয়ামেনি ও আদ্রিয়েনদের নিয়ে বেশ শক্তিশালী ফরাসিরা।

স্পেনও কম সমৃদ্ধ নয়। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠে পেদ্রি ও মিকেল মেরিনো, সামনে নিকো উইলিয়ামস, ইয়ামাল ও দানি ওলমো, যেকোনো রক্ষণকে ভেঙে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের দ্রুতগতির আক্রমণই ছিল সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এমনিতেই ইতিহাস লেখার মঞ্চ। তবে এবার সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে থাকবে দুটি নাম, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামাল। একজন নিজের বিশ্বকাপ উত্তরাধিকার আরও সমৃদ্ধ করতে চান। অন্যজন প্রমাণ করতে চান ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানও তার। শেষ পর্যন্ত কে আলো ছড়াবেন?

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..