✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঁচ সপ্তাহে ৫৩ হাজারের বেশি বিদেশি বহিষ্কার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৪, | ১১:১১:২৯ |

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে গত পাঁচ সপ্তাহে ৫৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা নির্বাসিত করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনার পর শুরু হওয়া এই অভিযানকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় অভিবাসন অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিচার ও সাংবিধানিক উন্নয়নমন্ত্রী মামোলোকো কুবাইয়ি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ৪৯৯ জন বিদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন মালাউইয়ের নাগরিক। এছাড়া জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের বিপুলসংখ্যক নাগরিকও রয়েছেন। অভিযান এখনও চলমান থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সম্প্রতি দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনকারীরা কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং নথিপত্রহীন বিদেশিদের গণহারে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের অভিযোগ, উচ্চ বেকারত্ব, অপরাধ বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ তৈরির জন্য অবৈধ অভিবাসীরাই দায়ী। তবে জাতিসংঘ এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দেশের আর্থ-সামাজিক সমস্যার জন্য অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা নথিপত্রহীন অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার জন্য ৩০ জুন পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। এরপর সহিংসতা ও ভীতি এড়াতে বহু বিদেশি স্বেচ্ছায় দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যান। একই সময়ে ঘানা, নাইজেরিয়া, উগান্ডা ও কেনিয়াসহ কয়েকটি আফ্রিকান দেশ বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়েছে।

গত রোববার প্রিটোরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে কুবাইয়ি বলেন, সরকার এমন একটি সুশৃঙ্খল অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা একদিকে জনগণের উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটাবে, অন্যদিকে নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

তিনি জানান, অভিযানের সময় এমন কয়েকজন ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে আগে থেকেই পুলিশের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার সন্দেহে কোনো বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিজেরা অভিযান চালানো বা জোরপূর্বক তল্লাশি করা আইনবিরোধী।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাও অভিবাসন ইস্যুতে জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিবাসীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।

আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে উন্নত অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উন্নত জীবিকার আশায় আসা অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং সামাজিক অস্থিরতার মধ্যে অভিবাসন প্রশ্নটি দেশটির রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।

তথ্য সূত্র- বিবিসি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..