✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

দল বাড়লেও গল্পটা একই, শেষ আটে ইউরোপেরই জয়জয়কার!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৯, | ১৪:৫৫:৫৬ |

দল সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করার মূল লক্ষ্যই ছিল বিশ্বমঞ্চে অনগ্রসর মহাদেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং ফুটবলকে আরও বৈশ্বিক রূপ দেওয়া। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত হতেই দেখা গেল সেই অতি পরিচিত চেনা চিত্রনাট্য। মাঠের লড়াইয়ে ফুটবল বিশ্বের ইউরোপীয় আধিপত্য ভাঙা এবারও সম্ভব হয়নি। শেষ আটের লড়াইয়ে জায়গা করে নেওয়া দলগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, আটটি দেশের মধ্যে ছয়টিই ইউরোপের পরাশক্তি। এই মহাদেশীয় দাপটের বাইরে ব্যতিক্রম হিসেবে বিশ্বমঞ্চে কোনোমতে টিকে রয়েছে কেবল লিওনেল মেসির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকার গর্ব মরক্কো।

ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলো এখনও শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকায় ২০১৮ সালের মতো আবারও একটি সম্পূর্ণ ইউরোপীয় সেমিফাইনাল দেখার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিশ্বকাপে ইউরোপের কোটা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে ২৪টি দলের মধ্যে ১৪টিই ছিল ইউরোপের, যা এবার ৪৮ দলের টুর্নামেন্টে নেমে এসেছে মাত্র ১৬টিতে। বিপরীতে অন্যান্য অঞ্চলের অংশগ্রহণ ব্যাপক বেড়েছে, যার বড় প্রমাণ আফ্রিকার আসন সংখ্যা ২০২২ সালের পাঁচটি থেকে দ্বিগুণ হয়ে এবার ১০টিতে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু টুর্নামেন্ট যখন আসল ও জমজমাট রূপ নিয়েছে, তখন ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ও কোটি ডলারের একাডেমি ব্যবস্থার সাফল্যই মাঠের ফলে প্রকাশ পাচ্ছে। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যেখানে পাঁচটি ইউরোপীয় দল ছিল, এবার সেই সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ে।

ইউরোপীয় দাপটের এই বাজারে ভিন্ন এক কৌশলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে মরক্কো। ২০২২ সালের ইতিহাস গড়া সেমিফাইনালিস্টরা এবারও তাদের সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে। তবে তাদের এই দলটির পেছনে রয়েছে ইউরোপেরই বড় অবদান। মরক্কো দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ কিংবা নুসাইর মাজরাউইয়ের মতো প্রধান তারকাদের প্রায় সবাই ইউরোপের মাটিতে জন্ম নিয়েছেন এবং সেখানকার বিশ্বমানের একাডেমিগুলোতে বড় হয়েছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে তো এক পর্যায়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ভিন্ন দেশে জন্ম নেওয়া একাদশ মাঠে নামিয়েছিল মরক্কো। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি বেশ আশাবাদী, কারণ তার মতে দুই দলই চার বছর আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি পরিপক্ক।

এদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য এই বিশ্বকাপ এক চরম হতাশার গল্প লিখেছে। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হলো সেলেসাওদের। ইউরোপীয় জুজু কাটাতে তারা এবার হাইপ্রোফাইল ইউরোপীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু রাউন্ড অব সিক্সটিনে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের সেই ইউরোপীয় অভিশাপ আরও দীর্ঘায়িত হলো। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জিততে না পারার কলঙ্ক এবারও মুছতে পারল না তারা।

লাতিন আমেরিকার আরেক পরাশক্তি আর্জেন্টিনা অবশ্য ভিন্ন কায়দায় টিকে আছে। তাদের খেলোয়াড়রা দেশে জন্ম নিলেও খুব অল্প বয়সেই ইউরোপের ক্লাবগুলো তাদের লুফে নেয়, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ লিওনেল মেসি। শেষ আটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, যারা কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন, আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব কিছু নয়। অন্যদিকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। রেকর্ড নয়টি প্রতিনিধি নিয়ে আসা এশিয়ার দলগুলোর অবস্থাও ছিল শোচনীয়, যার মধ্যে কেবল অস্ট্রেলিয়া ও জাপান গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পেরেছিল। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..