জ্বালানি তেলের বাজার

ইউরোপের তিন কোম্পানির মুনাফা ৪৭৫ কোটি ডলার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৭, | ১৮:৪১:৪৯ |
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার।

তেলের দামে এ ব্যাপক ওঠানামার সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেছে ইউরোপের শীর্ষ তিনটি তেল কোম্পানি। মূলত শক্তিশালী ‘ট্রেডিং ডেস্ক’ বা বাণিজ্যিক শাখাগুলো এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এফটি।

পাঁচজন বিশ্লেষকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শেল, বিপি ও টোটালএনার্জিসের বাণিজ্যিক শাখা থেকে ৩৩০-৪৭৫ কোটি ডলার অতিরিক্ত মুনাফা এসেছে। তিন কোম্পানির মোট আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৬৯০ কোটি ডলার বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ভেনিজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের ফলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী যেমন এক্সন মবিল বা শেভরনের চেয়ে এগিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মুনাফা মূলত তেল উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো তেলের কেনাবেচা বা ব্যবসা করে বেশি লাভ করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ চলাকালীন তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে ট্রেডিং টিমগুলো বেশি ভালো কাজ করে। এক্ষেত্রে বাজারের কম দামে তেল কিনে অন্য বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা নিশ্চিত করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও এশিয়ায় তেলের সংকট তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক বাণিজ্য পথগুলো বদলে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম জানুয়ারিতে ৬০ ডলারের নিচে থাকলেও এপ্রিলে তা রেকর্ড ১৪৪ ডলারে পৌঁছায়।

জ্বালানি তেলের বাজারে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে বিপি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক শাখা গত বছরের শেষ তিন মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ১৭৫ কোটি ডলার বেশি আয় করেছে। উল্লেখ্য, বিপির সারা বিশ্বে দুই হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে, যারা তেলের কেনাবেচার কাজ করেন।

অন্যদিকে শেলের বাণিজ্যিক শাখা থেকে অতিরিক্ত ১৬০ কোটি ডলার এবং টোটালএনার্জিস প্রায় ৮০ কোটি ডলার আয় করেছে। টোটালএনার্জিসের প্রধান প্যাট্রিক পুয়ানে জানান, বাজার অস্থিতিশীল থাকলে তাদের ব্যবসায়ীরা খুশিই হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরাও মুনাফার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন। যুদ্ধ শুরুর পর বিপি ও টোটালের শেয়ারদর যথাক্রমে ১২ শতাংশ ও ২১ শতাংশ বেড়েছে। শেলের শেয়ারদরও বেড়েছে ৯ শতাংশ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..