বায়ুদূষণে বাড়ছে সিওপিডি রোগীদের ঝুঁকি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৭, | ১৮:৩৭:১৫ |
বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে Chronic Obstructive Pulmonary Disease বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য দূষিত বাতাস অত্যন্ত ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের মতে, সিওপিডি রোগীদের ফুসফুস ও শ্বাসনালি আগে থেকেই দুর্বল থাকে। ফলে বায়ুদূষণের প্রভাবে তাদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, কফ জমা এবং ফুসফুসে প্রদাহের মতো জটিলতা দ্রুত দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সিওপিডি সাধারণত দীর্ঘদিন ধূমপান, ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং কিছু জিনগত কারণে হয়ে থাকে। তবে বায়ুদূষণ এ রোগকে আরো জটিল করে তোলে। দূষিত বাতাসে থাকা ক্ষুদ্র ধূলিকণা, বিষাক্ত গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এতে রোগীদের স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং অনেক সময় পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরের বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্প-কারখানার কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং বন আগুনের ধোঁয়া। এসব উৎস থেকে নির্গত অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড সিওপিডি রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ভূমিস্তরের ওজোন বা স্মগও শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণও কম ক্ষতিকর নয়। ঘরের ভেতরে ধূমপান, কাঠ বা কয়লার চুলার ধোঁয়া, ধুলাবালি, ফাঙ্গাস, পরিষ্কারক সামগ্রী, রঙ ও এয়ার ফ্রেশনার থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ সিওপিডি রোগীদের শ্বাসতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই ঘরের ভেতরের দূষণকে গুরুত্ব না দিলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের কারণে সিওপিডি রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। দূষিত বাতাস ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগ সহজে আক্রমণ করতে পারে। এসব সংক্রমণ সিওপিডি রোগীদের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া দীর্ঘদিন দূষিত পরিবেশে থাকলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। অনেক সময় হঠাৎ অতিরিক্ত দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে সিওপিডি রোগীদের তীব্র শ্বাসকষ্ট বা ফ্লেয়ার-আপ দেখা দেয়। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না নিলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সিওপিডি রোগীদের দূষিত পরিবেশ এড়িয়ে চলা, ধূমপান থেকে বিরত থাকা, ঘরের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..