বিশ্বজুড়ে পাঞ্জাবি সংস্কৃতি ও সংগীতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া তারকা দিলজিৎ দোসাঞ্জের রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই সরগরম ছিল পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহল। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাকে পাঞ্জাবের নতুন রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দেখার আবেদন জানিয়েছিলেন।
তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিলজিৎ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজনীতি তার জন্য নয়। নিজের কাজ এবং লক্ষ্য নিয়ে অত্যন্ত সজাগ এই তারকা সাফ জানিয়েছেন, তিনি বিনোদনজগতেই খুশি।
সম্প্রতি একটি পাঞ্জাবি সংবাদপত্রে তার রাজনীতিতে আসা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন দিলজিৎ। সেখানে তিনি পাঞ্জাবি ভাষায় লেখেন, ‘কাদে ভি নেহি’ অর্থাৎ ‘কখনোই নয়’। তিনি আরও যোগ করেন, তার প্রধান কাজ হলো মানুষকে বিনোদন দেওয়া এবং তিনি নিজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুখে আছেন। তার এই সোজাসাপ্টা জবাব অনুরাগীদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেই তিনি নিজের সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
বর্তমানে নিজের ‘অরা ট্যুর’ নিয়ে বিশ্বভ্রমণে ব্যস্ত রয়েছেন দিলজিৎ। সম্প্রতি কানাডায় একটি কনসার্ট চলাকালীন কিছু দর্শককে বিতর্কিত পতাকা ওড়াতে দেখে মাঝপথে অনুষ্ঠান থামিয়ে দিয়ে তিনি সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন। জিমি ফ্যালন শো-তে উপস্থিত হওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। তবে কাজের ক্ষেত্রে তিনি মোটেও বিরতি নিচ্ছেন না। সম্প্রতি জে পি দত্তের ১৯৯৭ সালের কালজয়ী ছবি ‘বর্ডার’-এর সিক্যুয়েল ‘বর্ডার ২’-এ সানি দেওল ও বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দিলজিৎ এখন বেশ আশাবাদী। ইমতিয়াজ আলির আগামী ছবি ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’-তে তাকে প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে। ‘অমর সিং চমকিলা’-র সাফল্যের পর এটি ইমতিয়াজ আলির সঙ্গে তার দ্বিতীয় কাজ। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই পিরিয়ড ড্রামাটিতে তার বিপরীতে রয়েছেন শর্বরী। আগামী ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাওয়া এই ছবিটিতে এ আর রহমানের সংগীত এবং ইরশাদ কামিলের লেখনী এক অন্য মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে দিলজিৎ এখন পুরোপুরি তার নতুন এই প্রজেক্ট এবং বিশ্ব সফরের দিকেই মনোনিবেশ করছেন।
সূত্র: মিড-ডে
এ জাতীয় আরো খবর..