ইন্দোনেশিয়ার অ্যালুমিনিয়াম রফতানিতে রেকর্ড

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১০, | ১৩:৫২:০৯ |
ইন্দোনেশিয়ার অ্যালুমিনিয়াম রফতানি ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশটির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিসংখ্যান সংস্থা এবং ট্রেড ডেটা মনিটরের তথ্যানুযায়ী, মার্চে দেশটি মোট ৮৮ হাজার ৫৫৪ টন অ্যালুমিনিয়াম রফতানি করেছে। অথচ ফেব্রুয়ারিতে ছিল মাত্র ৩৩ হাজার ৪৯০ টন। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়া নিজেদের শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, এ প্রবৃদ্ধি তারই অংশ। দেশটি চলতি বছর অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সময়ে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি বৃদ্ধি বিশ্ববাজারে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন অ্যালুমিনিয়ামের উচ্চ চাহিদা রয়েছে, তখন ইন্দোনেশিয়ার এ বাড়তি সরবরাহ বাজার স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

এ রেকর্ড রফতানির পেছনে নতুন একটি কারখানার বড় অবদান রয়েছে। গত মার্চে প্রথমবারের মতো দেশটির হালমাহেরা দ্বীপের ওয়েদা বে থেকে অ্যালুমিনিয়াম রফতানি শুরু হয়েছে। কারখানাটি মূলত চীনের দুই বৃহৎ প্রতিষ্ঠান সিং শান হোল্ডিং গ্রুপ ও সিনফা গ্রুপের যৌথ মালিকানাধীন একটি স্মেল্টার বা শোধনাগার। সম্প্রতি এখানে উৎপাদন শুরু হওয়ার পরই দেশটির মোট রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

অন্যদিকে মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালুমিনিয়ামের চালান পাঠানোকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত ইন্দোনেশিয়া আঞ্চলিক দেশগুলোয় পণ্য রফতানি করে। এটি দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং একক কোনো অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়া বিশ্ব ধাতু শিল্পে এখন বড় শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে নতুন নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে তারা কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি আয় বাড়াচ্ছে। এতে দেশটিতে কর্মসংস্থান বাড়ছে এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। আগামী মাসগুলোয়ও এ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..