মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও মার্কিন শুল্কের প্রভাব সত্ত্বেও গত এপ্রিলে চীনের রফতানি ১৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে এ খবর সামনে এল। চীনের রফতানি বাড়ার এ হার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় চীন সরকার। খবর এবিসি নিউজ।
দেশটির সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত মার্চে চীনের রফতানি বেড়েছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। সে তুলনায় এপ্রিলের প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রফতানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। অথচ মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমেছিল প্রায় ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আমদানির ক্ষেত্রেও চীন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এপ্রিলে আমদানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও এটি মার্চের ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে কিছুটা কম, তবুও একে শক্তিশালী হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। এমন এক সময়ে বৈঠকটি হচ্ছে যখন দুই দেশের সম্পর্ক নানা জটিলতায় জর্জরিত। বর্তমানে ইরান যুদ্ধ থামানোর বিষয়টি দুই দেশের মধ্যকার অন্যান্য বাণিজ্যিক বিরোধের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ডাচ ব্যাংক আইএনজির প্রধান অর্থনীতিবিদ লিন সং বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর ও গাড়ি রফতানির ওপর ভর করে চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকবে। গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পর শুল্ক বাড়ালেও এ বছর পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চীনের কারখানাগুলোয় উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির কারণে বিদেশের বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, যা চীনের রফতানির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের অর্থনীতি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি সহনশীল। এর প্রধান কারণ হলো চীনের বিশাল তেলের মজুদ এবং জ্বালানির বহুমুখী উৎস। যদিও গত বছর চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, তবে এ বছর তা কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের জন্য চীনের নীতিনির্ধারকরা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..