✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

২০২৫-২৬ অর্থবছর: নয় মাসে রফতানি কমেছে ৪.৮৫ শতাংশ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৫, | ১৬:১৩:৪৬ |

গতকাল রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির দাবি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের পণ্য রফতানি স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে। রফতানিকারকরা বলছেন, এ নেতিবাচক পরিস্থিতির শুরু হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের ধাক্কায়। পরে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের নয় মাসে পণ্য রফতানির অর্থমূল্য ছিল ৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয় ৩ হাজার ৭১৯ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের। এ হিসাবে রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ইপিবি মনে করে, রফতানি কমার এ হার মাঝারি মানের সংকোচন বা হ্রাস নির্দেশ করে।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। কিন্তু এর পরের সাত মাসে টানা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে দেশের রফতানি খাতে। জানুয়ারিতে (২০২৬) নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৫০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। ইপিবি কর্তৃক গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী সর্বশেষ মার্চে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সদ্য সমাপ্ত মার্চে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে ৩৪৮ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে রফতানি হয়েছিল ৪২৪ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য। এ হিসাবে ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চে অর্থমূল্য বিবেচনায় পণ্য রফতানি কমেছে ১৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইপিবি বলেছে, এ হ্রাস সত্ত্বেও রফতানির পরিমাণ যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য, যা চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও এ খাতের সক্ষমতাকে ফুটিয়ে তোলে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয় দশমিক ৫০ শতাংশ। ডিসেম্বরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। নভেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমে যায় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অক্টোবরে কমার হার ছিল ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ছিল ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগস্টে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয় ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

ইপিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেহেতু বাংলাদেশের রফতানি কার্যক্রম মূলত তৈরি পোশাক খাতনির্ভর, তাই এ খাতের সামান্য পরিবর্তনও সামগ্রিক রফতানির ধারায় বড় প্রভাব ফেলে। ইপিবি বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানিয়েছে, প্রধান রফতানি খাতগুলোর মধ্যে অধিকাংশেই গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এর ব্যতিক্রম ছিল হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্য, যেগুলোতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। সামগ্রিক রফতানি পরিস্থিতি একাধিক বৈশ্বিক প্রভাবকের কারণে চাপের মুখে পড়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে ইপিবি। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, যা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো প্রধান রফতানি গন্তব্যগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা শ্লথ হয়ে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রফতানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘কয়েক মাস ধরেই আমাদের রফতানি আয়ে নেতিবাচক ধারা চলছে। অতীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। এ নেতিবাচক পরিস্থিতির শুরু হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের ধাক্কায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রেতাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে।

সব মিলিয়ে ক্রয়াদেশ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না উল্লেখ করে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে কারখানায় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটিও রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ, শিল্পে জ্বালানি তেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে খুব দ্রুত নীতিগত সহায়তা দেয়ার ব‍্যবস্থা করা দরকার।’

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে রফতানি গন্তব্যের ক্ষেত্রে ৬৫৩ কোটি ৮৪ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তম বাজার হিসেবে অক্ষুণ্ন রয়েছে। যদিও এ বাজারে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রফতানি কমেছে ১ দশমিক ১০ শতাংশ। জার্মানিতে রফতানি কমেছে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে কমেছে ১ দশমিক ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..