মার্কিন সরকারকে দখল করে নিয়েছে ইসরায়েল: ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সাবেক কর্মকর্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ক্যারি প্রেজিন বোলার। ফাইল ছবি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১৮, | ১৪:৩৩:০৯ |
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্টের পদত্যাগের পর এবার একই ইস্যুতে প্রকাশ্যে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সাবেক এক কর্মকর্তার বিস্ফোরক মন্তব্য।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ক্যারি প্রেজিন বোলার অভিযোগ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে ইসরায়েলের প্রভাব রয়েছে এবং এই কারণেই ইরান যুদ্ধে জড়িয়েছে দেশটি। তার মতে, ইসরায়েল মার্কিন সরকারকে দখল করে নিয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের জনপ্রিয় মাগা (মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) আন্দোলন এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং আমরা এই ট্রাম্পকে আর চিনি না।

বোলারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইসরায়েলের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মাগা আন্দোলন এখন ‘মৃত’।

সোমবার ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সর্ড’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বোলার বলেন, তিনি আর ট্রাম্পকে ‘চেনেন না’, যদিও তাকে একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু মনে করতেন।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আমরা এক ধরনের দখলদারিত্বের মধ্যে আছি। একটি বিদেশি দেশ (ইসরায়েল) আমাদের সরকারকে দখল করে নিয়েছে। এখন আমরা দেখছি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একটি বিদেশি সরকারের প্রভাবে কাজ করছেন’। ইরান যুদ্ধের পেছনে ইসরায়েল এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘন ঘন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টিকে দায়ী করেন তিনি।

বোলার বলেন, “তিনি (নেতানিয়াহু) প্রায় আটবার এখানে এসেছেন। এটি লজ্জাজনক। আমরা যুক্তরাষ্ট্র-তাহলে কেন একটি বিদেশি দেশ আমাদের সরকারকে প্রভাবিত করতে দিচ্ছি?”

তিনি আরও বলেন, “মাগা এখন শেষ, পুরোপুরি শেষ। আমেরিকানরা ক্ষুব্ধ। আমরা আর এই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিনি না।”

এটি মূলত ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে ঘিরে তার রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যেও ভাঙনের ইঙ্গিত। প্রভাবশালী সহযোগী ও সাবেক কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন। মঙ্গলবার ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জো কেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন। এতে তিনি ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

চিঠিতে তিনি লেখেন, “আমি বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধে সমর্থন দিতে পারছি না। ইরান আমাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনও হুমকি ছিল না এবং স্পষ্টতই ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপে আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।”

গত মাসে হোয়াইট হাউসের রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশন থেকে বোলারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে তাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। একটি শুনানিকে ‘ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা’ করার অভিযোগে তাকে অপসারণ করা হয়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান যুদ্ধ শুরু হলে রিপাবলিকানদের মধ্যেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ মনে করছেন, বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এই নীতির মূল ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বোলার দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন। তার মতে, সাধারণ রক্ষণশীল সমর্থকদের মধ্যেও এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন মাগা সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলি এবং সাধারণ আমেরিকানরা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। তারা মনে করে, ইসরায়েলের কারণেই আমরা এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছি।”

শেষে তিনি বলেন, “আমরা আর এমন কোনও রাজনীতিককে ভোট দেব না, যারা মিথ্যা বলে যে তারা দুর্নীতি দূর করবে না এবং বিদেশি যুদ্ধে জড়াবে না। ট্রাম্প আমাদের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, ম্যাগা আন্দোলনের সঙ্গেও তাই করেছেন। এ নিয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ।” 

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, দ্য হিল

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..