জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকায় তারা ‘স্ট্র্যাটেটিক রিজার্ভ' বা কৌশলগত মজুত থেকে বাজারে তেল ছাড়ার বিষয়টিকে সমর্থন করে।
কিন্তু এই স্ট্র্যাটেজিক তেলের মজুত কোথায় থাকে এবং এটা ছাড়লে কী পরিবর্তন হতে পারে?
বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (আইইএ) সদস্য সব দেশেরই ৯০ দিনের জন্য তেল মজুত করে রাখা বাধ্যতামূলক।
তবে এই তেল নির্দিষ্ট কোনো জিওগ্রাফিক লোকেশন বা ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে রাখা হয় না।
যেমন যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে শেল বা বিপির মতো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন টার্মিনাল ও শোধনাগারে এই তেল মজুদ করে রাখে এবং অন্য কোথাও মজুত করে রাখা তেলকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
মজুত থেকে তেল ছাড়ার অর্থ এটা নয় যে, বাজারে হঠাৎ করে তেলের বন্যা বয়ে যাবে বা পরিমাণ বেড়ে যাবে। বরং এর মাধ্যমে উৎপাদনকারীরা শোধনাগারগুলোর জন্য বাজারে আরো বেশি তেল সহজলভ্য করে দেয়।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, যেহেতু তেল শোধনের সক্ষমতায় ঘাটতি রয়েছে তাই এই মজুদ তেল ছেড়ে দেওয়া মানেই পেট্রোল বা জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর কোনো ‘ম্যাজিক সুইচ’ নয়।
তাছাড়া, প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেলের মজুদের মধ্য থেকে কয়েকশ কোটি ব্যারেল ছেড়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ বারবার নেওয়া সম্ভব না।
তাই এই তেল ছাড়ার বিষয়ে প্রস্তুত থাকা বা নীতিগতভাবে সম্মত হওয়া, আসলে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বাজারকে আশ্বস্ত করার একটি কৌশল মাত্র।
তেলের এই মজুত ছাড়ার বিষয়টি আসলে একটি সংকেত, যার মাধ্যমে সরকারগুলো বোঝাতে চায়, তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, এর ফলে তেলের দাম হয়তো কমবে না, তবে দাম আরও অনেক বেশি বেড়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..