দীর্ঘ আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন নেপালের নাগরিকরা। প্রায় ছয় মাস আগে নজিরবিহীন তরুণ-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হন। সেই প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শক্তিশালী তরুণ আন্দোলনের সরাসরি লড়াই হিসেবে।
নেপালে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা (গ্রিনিচ মান সময় ১টা ১৫ মিনিট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের স্থলাভিষিক্ত হবে নতুন সরকার। ওই অভ্যুত্থানে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং পার্লামেন্টসহ বহু সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পুরোনো রাজনীতির বিপরীতে তরুণদের শক্ত চ্যালেঞ্জ
এই নির্বাচনে আলোচনায় রয়েছেন কয়েকজন প্রভাবশালী প্রার্থী। নির্বাচনী লড়াইয়ে একদিকে রয়েছে কয়েক দশক ধরে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা নেপালি কংগ্রেস (এনসি) এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) মতো পুরোনো দলগুলো। অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, তিন বছরের পুরোনো দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এবার এগিয়ে রয়েছে। র্যাপ গায়ক হিসেবে জনপ্রিয় মুখ ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহ গত জানুয়ারিতে এই দলে যোগ দেন এবং তিনি দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী।
কাঠমান্ডুর সাবেক এই মেয়র গত সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শাহর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন ইউএমএলের ৭৪ বছর বয়সী কেপি শর্মা অলি, যিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশিলা কার্কি ভোটারদের ভয়মুক্তভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারে হাজারো সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেন-জি ব্যানারে শুরু হওয়া তরুণদের আন্দোলন প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হয়। পরে তা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে বিস্তৃত অসন্তোষে রূপ নেয়। এবার নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা অর্থনীতি পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
কাঠমান্ডুর ভোটার ৩৩ বছর বয়সী শশী গুরুং বলেন, এটি সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি নেপালের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হতে পারে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টসহ আটটি উচ্চতম শৃঙ্গের দেশ নেপালে দুর্গম তুষারাবৃত পার্বত্য এলাকায় ভোটসামগ্রী পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নজর থাকবে রাজধানী কাঠমন্ডুর দক্ষিণের কৃষিভিত্তিক সমতল অঞ্চলে। তিন প্রধান প্রধানমন্ত্রীপ্রার্থী সেখানেই আসন থেকে লড়ছেন, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন চিত্র।
দশকের পর দশক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা অভিজ্ঞ নেতারা স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার বার্তা দিচ্ছেন। অন্যদিকে তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের ডাক তুলেছে। নেপাল কি পুরনো নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বেছে নেবে, নাকি নতুন প্রজন্মের হাতে ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে, তা ফলাফলই বলে দেবে।
এ জাতীয় আরো খবর..