✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

শোকের মুহূর্তে ইসলামের সংযমী পথ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-১২-৩০, | ১৯:৪২:২৭ |
মানবজীবনে শোক এক অনিবার্য বাস্তবতা। প্রিয়জনের বিচ্ছেদে চোখের জল ঝরে, হৃদয় ভারী হয়ে ওঠে। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। কিন্তু এই স্বাভাবিক অনুভূতিকে ইসলাম যেমন অস্বীকার করে না; তেমনি কিভাবে সংযম, বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টির সীমার ভেতরে থেকে এই অনুভূতিকে প্রকাশ করতে হয়; সে বিষয়ে দিয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।


মানবিক আবেগ ও ঈমানি শিষ্টাচারের এক অপূর্ব সমন্বয় আমরা দেখতে পাই রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর জীবন থেকে। বিশেষ করে তাঁর প্রিয় পুত্র ইব্রাহীম (রা.)-এর ইন্তেকালের মুহূর্তে প্রদর্শিত আচরণ আমাদের জন্য শোক মোকাবিলার এক অনুপম আদর্শ।

এই প্রেক্ষাপটেই আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত নিম্নোক্ত হৃদয়স্পর্শী হাদিসটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য—

 عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ دَخَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي سَيْفٍ الْقَيْنِ وَكَانَ ظِئْرًا لإِ÷بْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلاَم فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِبْرَاهِيمَ فَقَبَّلَهُ وَشَمَّهُ ثُمَّ دَخَلْنَا عَلَيْهِ بَعْدَ ذَلِكَ وَإِبْرَاهِيمُ يَجُودُ بِنَفْسِهِ فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَذْرِفَانِ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا ابْنَ عَوْفٍ إِنَّهَا رَحْمَةٌ ثُمَّ أَتْبَعَهَا بِأُخْرَى فَقَالَ إِنَّ الْعَيْنَ تَدْمَعُ وَالْقَلْبَ يَحْزَنُ وَلاَ نَقُولُ إِلاَّ مَا يَرْضَى رَبُّنَا وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ

‘আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবূ সায়ফ্ কর্মকারের নিকট গেলাম।


তিনি ছিলেন (নবী-তনয়) ইব্রাহীম (রা.)-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম (রা.)-কে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং নাকে-মুখে লাগালেন। অতঃপর (আরেক বার) আমরা তার (আবূ সায়ফ্-এর) বাড়িতে গেলাম। তখন ইব্রাহীম (রা.) মুমূর্ষু অবস্থায়।

এতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উভয় চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন ‘আবদুর রহমান ইবনে ‘আওফ (রা.) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আর আপনিও? (ক্রন্দন করছেন?) তখন তিনি বললেন: অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন। আর হে ইব্রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকসন্তপ্ত। (বুখারি, হাদিস:১৩০৩)
এই হাদিস আমাদের স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, ইসলাম শোককে নিষিদ্ধ করেনি, বরং শোককে দিয়েছে শালীনতা ও ঈমানের নিয়ন্ত্রণ।


চোখের অশ্রু, হৃদয়ের ব্যথা; এগুলো দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং মানবিকতার স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। তবে ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এমন সব আচরণ, যা আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে। যেমন, বুক চাপড়ানো, উচ্চস্বরে বিলাপ করা, ভাগ্যকে দোষারোপ করা কিংবা মুখে এমন কথা বলা যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন:‘ শোক থাকবে, কিন্তু তা হবে সংযত; কষ্ট থাকবে, কিন্তু অভিযোগ থাকবে না; অশ্রু ঝরবে, কিন্তু জিহ্বা আল্লাহর রিযার সীমা অতিক্রম করবে না ‘

এই হাদিস আমাদের প্রিয়জন হারানোর কঠিন সময়ে আমাদের দায়িত্ব হলো ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং নিজেদের শোককে ঈমানের সৌন্দর্যে রূপ দেওয়ার সবক শিক্ষা দেয়।

আসুন, আমরা শোককে অস্বীকার না করে তাকে সবর, তাওহীদ ও আখিরাতমুখী বিশ্বাসে পরিণত করি। আল্লাহ যেন আমাদেরকে বিপদের মুহূর্তে এমন ভাষাই উচ্চারণ করার তাওফিক দেন; যা তিনি পছন্দ করেন, এবং এমন শোকই ধারণ করার শক্তি দেন; যা আমাদের ঈমানকে আরো দৃঢ় করে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..