মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি পেলেন আজহার

মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি পেয়েছেন জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। এ-সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আজহারুলের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এ আদেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সংক্ষিপ্তসার জমা দিতে বলা হয়েছে। আর আপিল শুনানির জন্য আগামী ২২ এপ্রিল তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় রিভিউ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রথম লিভ মঞ্জুর হলো।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ এই রিভিউ শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ও বুধবার শুনানি হয়।

আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও সৈয়দ মো. রায়হান উদ্দিন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম শুনানিতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহারুল। আপিলের ওপর শুনানি শেষে আজহারুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ রায় দেন। ২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন আজহারুল। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগ রিভিউ শুনানির জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাখেন।

ধার্য তারিখে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ৯ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। তবে ক্রম অনুসারে এর আগে থাকা মামলা শুনানি-নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে আদালতের কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ায় সেদিন রিভিউ আবেদনের শুনানি হয়নি।

রিভিউ আবেদন শুনানির বিষয়টি ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে উত্থাপন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সেদিন আদালত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন। এই পুনর্বিবেচনার আবেদন ওপর আজ শুনানি শেষে আদেশ দেওয়া হলো। আজহারুল কারাগারে আছেন।

Comments (0)
Add Comment