তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি আগামীকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে নতুন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আলী আহসান জোনায়েদের নাম আলোচনায় ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জোনায়েদ বলেছেন, তিনি নতুন দলে থাকছেন না।
জোনায়েদের এই স্ট্যাটাস ফেসবুকে শেয়ার করে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাফে সালমান রিফাত (ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আরেক সাবেক সভাপতি) লিখেছেন, তিনিও নতুন দলে থাকছেন না।
শিবিরের আরেক সাবেক নেতা আরেফীন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহও নতুন দলে থাকছেন না বলে জানা গেছে। হিযবুল্লাহ ইতোমধ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির সহমুখপাত্র পদ থেকে পদত্যাগও করেছেন।
শিবিরের সাবেক এই তিন নেতা নতুন দলে যুক্ত না হলেও একসময় শিবির করতেন, এমন বেশ কয়েকজন নতুন দলে থাকছেন বলে জাতীয় নাগরিক কমিটির দায়িত্বশীল একজন নেতা জানিয়েছেন।
নতুন দলের আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব পদে আখতার হোসেনের নাম চূড়ান্ত বলে খবর বেরিয়েছে। এ ছাড়া মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্র পদে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর নামও অনেকটাই চূড়ান্ত।
নতুন দলের সম্ভাব্য কমিটিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিনের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা সারোয়ার তুষার, তাসনিম জারা ও আরিফুল ইসলাম আদীব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবদুল হান্নান মাসউদসহ কয়েকজন।
প্রস্তুতির জন্য দায়িত্ব বণ্টন: সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি চেয়ে বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) চিঠি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন উপকমিটি করে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বলে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন জানিয়েছেন।
পুনর্গঠিত হবে নাগরিক কমিটি: নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। শুক্রবার দলের আত্মপ্রকাশের পরও জাতীয় নাগরিক কমিটি একটি থাকবে। নেতারা জানান, এই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের বর্তমান কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হবে। নতুন দলের কার্যালয় হবে আলাদা স্থানে।
বাংলামোটরের কার্যালয়ে বুধবার নাগরিক কমিটির একটি বৈঠক হয়। সেখানে নাগরিক কমিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো হলো-
এক. আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, মুখপাত্র, মুখ্য সংগঠক ব্যতীত জাতীয় নাগরিক কমিটির অবশিষ্ট অর্গানোগ্রাম, নির্বাহী কমিটি, সেল ও সার্চ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক দলে যোগদানকারী সব কেন্দ্রীয় সদস্যের সদস্যপদ শুক্রবার দল ঘোষণার আগপর্যন্ত বহাল থাকবে। রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সদস্যের নাগরিক কমিটির সদস্যপদ বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। দলে যোগ দিচ্ছেন না, এমন সদস্যদের সদস্যপদ বহাল থাকবে।
দুই. আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, মুখপাত্র ও মুখ্য সংগঠক ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী ১৫ দিন অনানুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের উদ্যোগে নাগরিক কমিটির তিনজনের আনুষ্ঠানিক ফোরাম পরবর্তী অর্গানোগ্রাম নির্ধারণ করবে।
তিন. ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন দল আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে নাগরিক কমিটির রাজনৈতিক দল গঠনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব সম্পন্ন হবে। দল গঠনের পর থেকে নাগরিক কমিটি ‘সিভিল-পলিটিক্যাল’ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থেকে যাবে। আর কোনো দল গঠনের উদ্যোগ নেবে না।
নাগরিক কমিটি থেকে দলের বিভিন্ন পদের জন্য ১২০ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট একজন নেতা জানিয়েছেন। যাঁরা দলে যাবেন, তাঁদের বাইরে থাকা অন্যদের নিয়ে কমিটি পুনর্গঠিত হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।